প্রকাশিত সময় :
০২:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
১২২
ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) নতুন এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তরাঞ্চলীয় সাফেদ প্রদেশে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
আইআরজিসি বুধবার ঘোষণা করেছে যে, তারা আমেরিকান ও ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে ৮০তম দফার প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
একটি বিবৃতি অনুসারে, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ও অবিরাম হামলায় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েইসরায়েলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সামরিক কেন্দ্রগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, লেবাননের হিজবুল্লাহর গৌরবময় অভিযান এবং দক্ষিণ লেবাননের নিপীড়িত জনগণের সমর্থনে প্রতিশোধমূলক হামলার এই সর্বশেষ দফাটি চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির মতে, এই অভিযানটি বিশেষভাবে সাফেদ শহরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সামরিক কমান্ডকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা ফিলিস্তিনের উত্তর সীমান্ত বরাবর আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার জন্য বাহিনীকে নির্দেশ ও মোতায়েন করার দায়িত্বে রয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে যে, এই অভিযানটি ‘শিশু হত্যাকারী’ ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্বে ঘোষিত ধারাবাহিক অভিযানের সূচনা করে। তারা ঘোষণা করেছে, উত্তর অধিকৃত ফিলিস্তিন ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানগুলো কোনো বিবেচনা ছাড়াই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হবে।
এছাড়াও, তেল আবিব, কিরিয়াত শমোনা এবং বেনি ব্রাকসহ অধিকৃত অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে, সেইসাথে আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি, ক্যাম্প আরিফজান, আল আজরাক (মুওয়াফফাক সালতি) বিমান ঘাঁটি এবং শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম তরল ও কঠিন জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিধ্বংসী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসি যোগ করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের বিনা উস্কানির সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই হামলাগুলোতে ইরানজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্থানেই ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে।