মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমিকাকে নিজ বাড়িতে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা, অতঃপর..

প্রেমিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকা থেকে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।মৃতা সানজিদা কবির অনিতা (২১) ছিলেন বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক সম্মান শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বা‌হিনীর সদস‌্যরা।

অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে মইনুলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গে‌ছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শাহিন হাওলাদারের মে‌য়ে সানজিদা কবির তাঁর মায়ের সঙ্গে বরিশাল নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন।

একই এলাকার অন্য একটি ভাড়াবাড়িতে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন ঝালকাঠির মিল্টন আকনের ছে‌লে মইনুল ইসলাম।

প্রতিবেশী হিসেবে থাকার সূত্রে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।মৃতার মামা মিশু সিকদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বড় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন সানজিদা। এর পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার বড় বোন ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি জানানো হলে তিনি ফোন ট্র্যাক করে মইনুলের বাড়ির ঠিকানা পান।

সেখানে গিয়ে তিনি ভাগ্নিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।মিশু সিকদার অভিযোগ করেছেন, হত্যাকারী মইনুল ইসলাম এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যা করেছে। ওই ঘটনায় ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মিশু ব‌লেন, ‘এটা জানার পর আমার ভাগ্নিকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলাম।

কিন্তু আজ তাকেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’অভিযুক্তের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘তার ছেলের সঙ্গে সানজিদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সানজিদা তাদের বাড়িতে আসেন। পরে মইনুলের ঘরে সানজিদার মৃতদেহ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তখন মইনুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তিনি জানান, কিভাবে কী ঘটেছে তা তিনি বলতে পারছেন না।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ব‌লেন, ‘মৃতার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো ছোপ দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফরেনসিক দলের সদস্যদের ধারণা সানজিদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

প্রেমিকাকে নিজ বাড়িতে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা, অতঃপর..

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রেমিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকা থেকে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।মৃতা সানজিদা কবির অনিতা (২১) ছিলেন বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক সম্মান শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বা‌হিনীর সদস‌্যরা।

অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে মইনুলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গে‌ছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শাহিন হাওলাদারের মে‌য়ে সানজিদা কবির তাঁর মায়ের সঙ্গে বরিশাল নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন।

একই এলাকার অন্য একটি ভাড়াবাড়িতে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন ঝালকাঠির মিল্টন আকনের ছে‌লে মইনুল ইসলাম।

প্রতিবেশী হিসেবে থাকার সূত্রে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।মৃতার মামা মিশু সিকদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বড় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন সানজিদা। এর পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার বড় বোন ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি জানানো হলে তিনি ফোন ট্র্যাক করে মইনুলের বাড়ির ঠিকানা পান।

সেখানে গিয়ে তিনি ভাগ্নিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।মিশু সিকদার অভিযোগ করেছেন, হত্যাকারী মইনুল ইসলাম এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যা করেছে। ওই ঘটনায় ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মিশু ব‌লেন, ‘এটা জানার পর আমার ভাগ্নিকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলাম।

কিন্তু আজ তাকেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’অভিযুক্তের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘তার ছেলের সঙ্গে সানজিদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সানজিদা তাদের বাড়িতে আসেন। পরে মইনুলের ঘরে সানজিদার মৃতদেহ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তখন মইনুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তিনি জানান, কিভাবে কী ঘটেছে তা তিনি বলতে পারছেন না।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ব‌লেন, ‘মৃতার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো ছোপ দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফরেনসিক দলের সদস্যদের ধারণা সানজিদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’