রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের বিপরীতে উপহাস কোনো কাজে আসে না

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

وَ اِذَا رَاٰكَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡۤا اِنۡ یَّتَّخِذُوۡنَكَ اِلَّا هُزُوًا ؕ اَهٰذَا الَّذِیۡ یَذۡكُرُ اٰلِهَتَكُمۡ ۚ وَ هُمۡ بِذِكۡرِ الرَّحۡمٰنِ هُمۡ كٰفِرُوۡنَ

সরল অনুবাদ :
‘আর যারা কুফরি করে তারা যখন আপনাকে দেখে তখন তারা আপনাকে শুধু উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে, ‘এ কি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই ‘রহমান’-এর আলোচনার বিরোধিতা করে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩৬)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
মক্কার মুশরিকরা তাদের নিজেদের তৈরি মূর্তিগুলোকে ইলাহ-উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করত, আর আল্লাহর নাম তাদের সামনে বললে তারা আল্লাহ এবং তাঁর নবীকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। এমনকি মহানবী (সা.) তাদের মিথ্যা ও বানোয়াট দেব-দেবীরা যে ভিত্তিহীন এ কথা প্রচার করলে তারা এটাকে মহানবী (সা.)-এর একটা বড় দোষ মনে করে তারা বলত, তিনি তো আমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করেন।

অথচ মহানবী (সা.) যখন আল্লাহ তায়ালার ‘রহমান’ নামটি উল্লেখ করতেন, তখন তারা আপত্তি জানাত এবং বলত, রহমান আবার কী? (তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন, মুফতি তাকি উসমানি, তাফসিরে জাকারিয়া)
যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাদের এ অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আর তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্ররূপে গণ্য করে বলে, এ-ই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসুল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে দূরে সরিয়েই দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকতাম। আর যখন তারা জাহান্নামের আজাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন অবশ্যই জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৪১-৪২) (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

শিক্ষা ও বিধান

১. যারা আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করে, তাদের অনেক সময় উপহাস, বিদ্রুপ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়। নবী (সা.)-কেও এই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

তাই দাওয়াতের পথে ধৈর্য রাখা জরুরি।
২. মুশরিকরা সত্যের জবাব যুক্তি দিয়ে না দিয়ে উপহাসের আশ্রয় নেয়। এটি তাদের দুর্বলতারই প্রমাণ। সত্যকে অস্বীকারকারীরা সাধারণত এভাবেই আচরণ করে।

৩. মুশরিকরা নবী (সা.)-কে দোষারোপ করত যে তিনি তাদের মিথ্যা উপাস্যদের সমালোচনা করেন, অথচ তারা নিজেরাই ‌‘রহমান’ আল্লাহর স্মরণকে অস্বীকার করত। অর্থাৎ তারা নিজেরাই বড় অন্যায়ের মধ্যে লিপ্ত ছিল।

৪. তাওহিদের বিরোধিতা মানুষের পুরনো স্বভাব। এক আল্লাহর দাওয়াত (তাওহিদ) সব যুগেই বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। তাই একজন মুমিনের জন্য এটা নতুন কিছু নয়।

৫. দাওয়াতের পথে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অপরিহার্য। তাই মানুষ উপহাস করলেও সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। বরং ধৈর্য, সহনশীলতা ও দৃঢ় ঈমান বজায় রাখতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সত্যের বিপরীতে উপহাস কোনো কাজে আসে না

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

وَ اِذَا رَاٰكَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡۤا اِنۡ یَّتَّخِذُوۡنَكَ اِلَّا هُزُوًا ؕ اَهٰذَا الَّذِیۡ یَذۡكُرُ اٰلِهَتَكُمۡ ۚ وَ هُمۡ بِذِكۡرِ الرَّحۡمٰنِ هُمۡ كٰفِرُوۡنَ

সরল অনুবাদ :
‘আর যারা কুফরি করে তারা যখন আপনাকে দেখে তখন তারা আপনাকে শুধু উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে, ‘এ কি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই ‘রহমান’-এর আলোচনার বিরোধিতা করে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩৬)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
মক্কার মুশরিকরা তাদের নিজেদের তৈরি মূর্তিগুলোকে ইলাহ-উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করত, আর আল্লাহর নাম তাদের সামনে বললে তারা আল্লাহ এবং তাঁর নবীকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। এমনকি মহানবী (সা.) তাদের মিথ্যা ও বানোয়াট দেব-দেবীরা যে ভিত্তিহীন এ কথা প্রচার করলে তারা এটাকে মহানবী (সা.)-এর একটা বড় দোষ মনে করে তারা বলত, তিনি তো আমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করেন।

অথচ মহানবী (সা.) যখন আল্লাহ তায়ালার ‘রহমান’ নামটি উল্লেখ করতেন, তখন তারা আপত্তি জানাত এবং বলত, রহমান আবার কী? (তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন, মুফতি তাকি উসমানি, তাফসিরে জাকারিয়া)
যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাদের এ অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আর তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্ররূপে গণ্য করে বলে, এ-ই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসুল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে দূরে সরিয়েই দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকতাম। আর যখন তারা জাহান্নামের আজাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন অবশ্যই জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৪১-৪২) (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

শিক্ষা ও বিধান

১. যারা আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করে, তাদের অনেক সময় উপহাস, বিদ্রুপ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়। নবী (সা.)-কেও এই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

তাই দাওয়াতের পথে ধৈর্য রাখা জরুরি।
২. মুশরিকরা সত্যের জবাব যুক্তি দিয়ে না দিয়ে উপহাসের আশ্রয় নেয়। এটি তাদের দুর্বলতারই প্রমাণ। সত্যকে অস্বীকারকারীরা সাধারণত এভাবেই আচরণ করে।

৩. মুশরিকরা নবী (সা.)-কে দোষারোপ করত যে তিনি তাদের মিথ্যা উপাস্যদের সমালোচনা করেন, অথচ তারা নিজেরাই ‌‘রহমান’ আল্লাহর স্মরণকে অস্বীকার করত। অর্থাৎ তারা নিজেরাই বড় অন্যায়ের মধ্যে লিপ্ত ছিল।

৪. তাওহিদের বিরোধিতা মানুষের পুরনো স্বভাব। এক আল্লাহর দাওয়াত (তাওহিদ) সব যুগেই বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। তাই একজন মুমিনের জন্য এটা নতুন কিছু নয়।

৫. দাওয়াতের পথে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অপরিহার্য। তাই মানুষ উপহাস করলেও সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। বরং ধৈর্য, সহনশীলতা ও দৃঢ় ঈমান বজায় রাখতে হবে।