রমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এক মাস আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা এখনও বহাল আছে।
বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এ গুলি বিনিময় হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে কে প্রথম হামলা করেছিল
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড তাদের অভিযোগে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে আসা একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ও অন্য নৌযানকে নিশানা বানিয়েছিল এবং আকাশপথে একাধিক উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলার’ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানি হামলার জবাব দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, “ইরান আজ আমাদের উত্যক্ত করেছে।”
দুই পক্ষের মধ্যে এ হামলা, পাল্টা হামলার আগের দিনই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছে।
বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমই প্রথম হরমুজ প্রণালিতে ‘বিস্ফোরণের’ খবর দিয়ে ‘শত্রুর সঙ্গে গুলিবিনিময়’ হয়েছে বলে জানায়। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করে।
এর কিছুক্ষণ পর ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড বলে, যুক্তরাষ্ট্র বন্দর খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপে আকাশপথে হামলা চালিয়ে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করেছে এবং এর পাল্টায় তারাও মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করে সেগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ সাধন করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরান ‘বিনা উসকানিতে’ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে জানায়, ইরানি সেনারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা’ পাঠিয়েছিল।
এসবের প্রতিক্রিয়ায় তারা ‘ধেয়ে আসা হুমকি নির্মূল এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় দায়ী স্থাপনাগুলো, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্থান এবং গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও রেকি কেন্দ্রগুলোকে’ নিশানা বানিয়েছে।
“সেন্টকম উত্তেজনা বাড়াতে চায় না তবে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় প্রস্তুত ও অবস্থান নিয়ে রেখেছে,” বিবৃতিতে বলেছে তারা।
এদিকে ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে, যেগুলো খুব সুন্দরভাবে সমুদ্রে নেমে এসেছিল, অনেকটা প্রজাপতি যেমন তার কবরে নেমে আসে।”
ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ‘ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি’ হতে হয়েছে, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি ফের তেহরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার তাগাদা দিয়ে বলেন, “আজকে আমরা যেমন তাদেরকে ফের উড়িয়ে দিয়েছি, তেমনই আমরা ভবিষ্যতে তাদেরকে আরও শক্তভাবে, আরও সহিংসভাবে উড়িয়ে দেবো, যদি না তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।”
ইসরায়েলি একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ‘ইসরায়েল কোনোভাবেই জড়িত’ ছিল না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘দ্রুত শেষ হবে’ বলে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের খবর মিলল।
দিনকয়েক আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৪ দফা সম্বলিত একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি আছে বলে হোয়াইট হাউস বিশ্বাস করছে। ওই স্মারকেই পরবর্তীতে বিস্তৃত পরমাণু আলোচনার রূপরেখা থাকবে।
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছেন। এরপর তারা এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিতে রূপান্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের এক ঊর্ধ্বতন সদস্য ১৪ দফা সম্বলিত সমঝোতা স্মারকের খবরকে ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই শান্তি চুক্তিতে তাদের চাওয়া পূরণ না হলে ফের যুদ্ধে ফেরার হুমকি দিয়ে রেখেছে।

রিপোর্টারের নাম 
























