স্পেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি প্রমোদতরীতে বিরল হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকে দফায় দফায় যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিওএইচও)।
মঙ্গলবার স্পেনের মাদ্রিদে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডাব্লিওএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।
টেড্রোস বলেন, বিরল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এমভি হন্ডিয়াসতে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৩ যাত্রীর মৃত্যু ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিরল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
তবে জনস্বাস্থ্যের জন্য বৈশ্বিক ঝুঁকি বর্তমানে কম উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ নেই।
সতর্কতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে টেড্রোস বলেন, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন বা সুপ্তিকাল দীর্ঘ হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হতে পারে।
গত দুদিন ধরে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে এমভি হন্ডিয়াসের ১২০ জনের বেশি যাত্রী ও নাবিককে বিমানযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিজ নিজ দেশে ফেরার পর বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ দেশ উচ্চঝুঁকির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ৪২ দিনের নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের (কোয়ারেন্টিন) ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (সিডিসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মার্কিন যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন নাও হতে পারে।
এদিকে এমভি হন্ডিয়াসকে কোথায় নোঙর করতে দেওয়া হবে এবং যাত্রীদের চিকিৎসার দায়িত্ব কে নেবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক জটিলতাও তৈরি হয়েছে।
কেপ ভার্দে জাহাজটিকে তাদের বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে রাজধানী প্রাইয়ার উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় থেকেই গত সপ্তাহে তিনজন অসুস্থ যাত্রীকে ইউরোপে বিমানযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্পেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে জাহাজটিকে নোঙরের অনুমতি দেয়, যাতে যাত্রী ও নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক সরকার এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিশ্বের এখন আরও স্বার্থপরতা বা ভয় নয়, বরং সংহতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

রিপোর্টারের নাম 




















