বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, যুদ্ধ নিয়ে নতুন বার্তা

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য তেহরান সফরে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি “অস্থায়ী” চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। পাকিস্তান সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার (২১ মে) তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে এ কথা জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, মুনির বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেহরান সফরে যেতে পারেন, যেখানে তিনি ওই “অস্থায়ী” চুক্তি নিয়ে “গুরুত্বপূর্ণ” আলোচনা করবেন। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ তৈরি করা।

এখন পর্যন্ত মুনিরের সম্ভাব্য সফরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করতে পারেন।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুনির পাকিস্তানেই ছিলেন। এদিন তিনি গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডিতে সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতোমধ্যেই তেহরানে অবস্থান করছেন। সূত্রগুলো জানায়, বুধবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রধান আহমদ বাহিদিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ওই অস্থায়ী ব্যবস্থার বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অস্থায়ী চুক্তির মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করা।

তবে ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরাসরি আলোচনায় তোলা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

একজন পাকিস্তানি সূত্র বলেন, “যদি দুই পক্ষ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তাহলে ঈদুল আজহার পর ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।”

তিন দিনব্যাপী মুসলিম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা আগামী সপ্তাহে বুধবার থেকে শুরু হবে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এতে ৩,৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ইরানের ভেতরে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বহু সেনা আহত হয়। পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, যা ইসলামাবাদে হয়েছিল, স্থায়ী কোনো সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়। পরে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।

এরপর থেকে সংঘাত শেষ করতে এবং সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে দুই পক্ষ প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, যুদ্ধ নিয়ে নতুন বার্তা

প্রকাশিত সময় : ১০:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য তেহরান সফরে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি “অস্থায়ী” চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। পাকিস্তান সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার (২১ মে) তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে এ কথা জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, মুনির বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেহরান সফরে যেতে পারেন, যেখানে তিনি ওই “অস্থায়ী” চুক্তি নিয়ে “গুরুত্বপূর্ণ” আলোচনা করবেন। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ তৈরি করা।

এখন পর্যন্ত মুনিরের সম্ভাব্য সফরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করতে পারেন।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুনির পাকিস্তানেই ছিলেন। এদিন তিনি গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডিতে সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতোমধ্যেই তেহরানে অবস্থান করছেন। সূত্রগুলো জানায়, বুধবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রধান আহমদ বাহিদিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ওই অস্থায়ী ব্যবস্থার বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অস্থায়ী চুক্তির মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করা।

তবে ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরাসরি আলোচনায় তোলা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

একজন পাকিস্তানি সূত্র বলেন, “যদি দুই পক্ষ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তাহলে ঈদুল আজহার পর ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।”

তিন দিনব্যাপী মুসলিম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা আগামী সপ্তাহে বুধবার থেকে শুরু হবে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এতে ৩,৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ইরানের ভেতরে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বহু সেনা আহত হয়। পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, যা ইসলামাবাদে হয়েছিল, স্থায়ী কোনো সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়। পরে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।

এরপর থেকে সংঘাত শেষ করতে এবং সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে দুই পক্ষ প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।