বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারের দীর্ঘসূত্রিতাই ধর্ষণ বাড়াচ্ছে: মনিরা শারমিন

এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন সাম্প্রতিক রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পরও কেন আবার সাত দিনের তদন্তের সময় দেওয়া হলো।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রামিসার হত্যাকারী অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে। সাথে আরও কেউ জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কেস ৯৫% সলভড। আইনমন্ত্রী আবার কেন ৭ দিনের তদন্ত দিলেন? তদন্ত কর্মকর্তা এখন ঠিক কি তদন্ত করবেন?

তিনি আরও বলেন, আপনারা বলবেন, এটাই প্রক্রিয়া! এই সব ** এর প্রক্রিয়ার জন্যেই এই দেশে ধর্ষণ প্রতিবছর গাণিতিক হারে বেড়েছে। অপরাধী দোষ স্বীকার করার তিনদিনের মধ্যে কেন তার বিচার কার্যকর হবে না? ৭ দিন পরে ঈদ নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন রামিসার বাবার কথাই সত্য হবে। সবাই ভুলে যাবে।

এনসিপি নেত্রী বলেন, বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যই কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয় না। দীর্ঘদিন পর এই রায়গুলি অপরাধী বা সম্ভাব্য অপরাধীদের মনের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে না। আপনাদের ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুবর্ণচরের গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা মনে আছে? সেই বিচার কবে হয়েছে জানেন? ২০২৪ সালে, তাও আবার শুধু রায় হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয় নি। আমরা কয়জন খবর রেখেছি?

তিনি বলেন, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হয় সম্ভাব্য অপরাধীদের ভয় দেখিয়ে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত করতে। কিন্তু বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার এই সংস্কৃতি কি জনগণকে সচেতন করছে? কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? না।

তিনি আরও বলেন, একটা বিচার কার্যকর করেন। অপরাধীকে জনসম্মুখে ফাঁসির আদেশ দেন। রামিসা, আছিয়ার পরিবারের সামনে বিচার কার্যকর করেন। দেখেন, ধর্ষণ বন্ধ হয় কিনা!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিচারের দীর্ঘসূত্রিতাই ধর্ষণ বাড়াচ্ছে: মনিরা শারমিন

প্রকাশিত সময় : ১১:২২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন সাম্প্রতিক রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পরও কেন আবার সাত দিনের তদন্তের সময় দেওয়া হলো।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রামিসার হত্যাকারী অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে। সাথে আরও কেউ জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কেস ৯৫% সলভড। আইনমন্ত্রী আবার কেন ৭ দিনের তদন্ত দিলেন? তদন্ত কর্মকর্তা এখন ঠিক কি তদন্ত করবেন?

তিনি আরও বলেন, আপনারা বলবেন, এটাই প্রক্রিয়া! এই সব ** এর প্রক্রিয়ার জন্যেই এই দেশে ধর্ষণ প্রতিবছর গাণিতিক হারে বেড়েছে। অপরাধী দোষ স্বীকার করার তিনদিনের মধ্যে কেন তার বিচার কার্যকর হবে না? ৭ দিন পরে ঈদ নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন রামিসার বাবার কথাই সত্য হবে। সবাই ভুলে যাবে।

এনসিপি নেত্রী বলেন, বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যই কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয় না। দীর্ঘদিন পর এই রায়গুলি অপরাধী বা সম্ভাব্য অপরাধীদের মনের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে না। আপনাদের ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুবর্ণচরের গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা মনে আছে? সেই বিচার কবে হয়েছে জানেন? ২০২৪ সালে, তাও আবার শুধু রায় হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয় নি। আমরা কয়জন খবর রেখেছি?

তিনি বলেন, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হয় সম্ভাব্য অপরাধীদের ভয় দেখিয়ে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত করতে। কিন্তু বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার এই সংস্কৃতি কি জনগণকে সচেতন করছে? কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? না।

তিনি আরও বলেন, একটা বিচার কার্যকর করেন। অপরাধীকে জনসম্মুখে ফাঁসির আদেশ দেন। রামিসা, আছিয়ার পরিবারের সামনে বিচার কার্যকর করেন। দেখেন, ধর্ষণ বন্ধ হয় কিনা!