মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নববধূকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল জামাইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী ডেভ ফিজি ডেল্টা এয়ারলাইনসের একজন পাইলট ছিলেন।

বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তাদের বহনকারী একটি হেলিকপ্টার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডসনভিল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ডেভ ফিজি এবং হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হন। তবে ডেভের স্ত্রী জেসনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।

তার স্ত্রী পেশায় একজন নার্স। তিনি বর্তমানে আটলান্টার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, ডেভ ফিজির পরিবারের শিকড় ভারতের কেরালা রাজ্যে। বিয়ের আনন্দের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের পরিবারকে শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ডেভ ফিজির বাবা জর্জ ফিজি বলেন, ‘আমার ছেলে খুবই খুশি ছিল।’ পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডেভ শুক্রবার জেসনিকে বিয়ে করেন। প্রায় ১০ বছর আগে একটি গির্জায় তাদের পরিচয় হয়েছিল। জর্জিয়ার ডসনভিলের দ্য রিভিয়ার ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের সংবর্ধনা শেষে নবদম্পতি একটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে ওঠেন।

তাদের গন্তব্য ছিল জর্জিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ডেকাল্ব-পিচট্রি বিমানবন্দর। এটি ছিল নবদম্পতির জন্য বিশেষ আয়োজন। এরপর তাদের আটলান্টার একটি হোটেলে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টারটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ডসন কাউন্টির একটি নির্জন বনাঞ্চলে, মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছে এটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলটি বিয়ের ভেন্যু থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীদের হেলিকপ্টারটি খুঁজে পেতে অনেক সময় লেগেছে। এ সময় নববধূ জেসনি আহত অবস্থায় প্রায় ছয় ঘণ্টা বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ভেতরে আটকে ছিলেন। ডেভ ফিজির বাবা জর্জ ফিজি জানান, জেসনির শরীরে কাটা ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি জ্ঞান ফেরার পর দেখেন, ডেভ নিথর হয়ে পড়ে আছেন।

জর্জ ফিজি বলেন, ‘জেসনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, তবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।’

ডেভের বাবা আরো জানান, উড্ডয়নের আগে আবহাওয়া নিয়ে ডেভের উদ্বেগ ছিল। একজন পাইলট হিসেবে তিনি হেলিকপ্টারের চালককে বলেছিলেন যে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য এবং এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত উড্ডয়ন করা হয় না।

তবে হেলিকপ্টারের পাইলট নাকি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা আরো বেশি উচ্চতায় উড়ে নিরাপদে যেতে পারবেন। এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নববধূকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল জামাইয়ের

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী ডেভ ফিজি ডেল্টা এয়ারলাইনসের একজন পাইলট ছিলেন।

বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তাদের বহনকারী একটি হেলিকপ্টার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডসনভিল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ডেভ ফিজি এবং হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হন। তবে ডেভের স্ত্রী জেসনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।

তার স্ত্রী পেশায় একজন নার্স। তিনি বর্তমানে আটলান্টার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, ডেভ ফিজির পরিবারের শিকড় ভারতের কেরালা রাজ্যে। বিয়ের আনন্দের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের পরিবারকে শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ডেভ ফিজির বাবা জর্জ ফিজি বলেন, ‘আমার ছেলে খুবই খুশি ছিল।’ পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডেভ শুক্রবার জেসনিকে বিয়ে করেন। প্রায় ১০ বছর আগে একটি গির্জায় তাদের পরিচয় হয়েছিল। জর্জিয়ার ডসনভিলের দ্য রিভিয়ার ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের সংবর্ধনা শেষে নবদম্পতি একটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে ওঠেন।

তাদের গন্তব্য ছিল জর্জিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ডেকাল্ব-পিচট্রি বিমানবন্দর। এটি ছিল নবদম্পতির জন্য বিশেষ আয়োজন। এরপর তাদের আটলান্টার একটি হোটেলে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টারটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ডসন কাউন্টির একটি নির্জন বনাঞ্চলে, মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছে এটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলটি বিয়ের ভেন্যু থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীদের হেলিকপ্টারটি খুঁজে পেতে অনেক সময় লেগেছে। এ সময় নববধূ জেসনি আহত অবস্থায় প্রায় ছয় ঘণ্টা বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ভেতরে আটকে ছিলেন। ডেভ ফিজির বাবা জর্জ ফিজি জানান, জেসনির শরীরে কাটা ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি জ্ঞান ফেরার পর দেখেন, ডেভ নিথর হয়ে পড়ে আছেন।

জর্জ ফিজি বলেন, ‘জেসনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, তবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।’

ডেভের বাবা আরো জানান, উড্ডয়নের আগে আবহাওয়া নিয়ে ডেভের উদ্বেগ ছিল। একজন পাইলট হিসেবে তিনি হেলিকপ্টারের চালককে বলেছিলেন যে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য এবং এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত উড্ডয়ন করা হয় না।

তবে হেলিকপ্টারের পাইলট নাকি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা আরো বেশি উচ্চতায় উড়ে নিরাপদে যেতে পারবেন। এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।