বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ধ্বংস

জর্ডানে মার্কিন সামরিক কর্মীদের ব্যবহূত একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স এই হামলায় তাদের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ‘সলিড-ফুয়েল’ (কঠিন জ্বালানি চালিত) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি’র দাবি, এই হামলায় জর্ডানের ওই ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। যার মধ্যে মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী এই হামলাকে তাদের একটি বৃহত্তর ও সুপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক অভিযানের চূড়ান্ত অংশ বা সমাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। আইআরজিসি’র দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত বিভিন্ন মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এছাড়া, একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

বিবৃতির শেষে ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, আমেরিকার যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা পাল্টা হামলার জবাবে তারা একটি চূড়ান্ত আঘাত হানতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত বা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সদর দফতর বা জর্ডান প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র- আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ধ্বংস

প্রকাশিত সময় : ১০:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
জর্ডানে মার্কিন সামরিক কর্মীদের ব্যবহূত একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স এই হামলায় তাদের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ‘সলিড-ফুয়েল’ (কঠিন জ্বালানি চালিত) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি’র দাবি, এই হামলায় জর্ডানের ওই ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। যার মধ্যে মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী এই হামলাকে তাদের একটি বৃহত্তর ও সুপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক অভিযানের চূড়ান্ত অংশ বা সমাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। আইআরজিসি’র দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত বিভিন্ন মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এছাড়া, একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

বিবৃতির শেষে ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, আমেরিকার যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা পাল্টা হামলার জবাবে তারা একটি চূড়ান্ত আঘাত হানতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত বা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সদর দফতর বা জর্ডান প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র- আল জাজিরা