প্রকাশিত সময় :
০৬:০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৫
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সামরিক অভিযান চালিয়ে দখলে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা মার্কিন সেনাবাহিনী তৈরি করেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) সদরদপ্তরে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। জানা গেছে, ওই বৈঠকে যোগ দিতে তিনি ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনাপ্রধানদের একটি নির্ধারিত বৈঠকের সূচিও সংক্ষিপ্ত করেছিলেন।
বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত জব্দ করতে সম্ভাব্য একটি স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং এর একটি প্রাথমিক খসড়াও তৈরি করা হয়। পরে জেনারেল ড্যান কেইন সেই পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করে অনুমোদন চান।
তবে ট্রাম্প প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা ও নাগরিক হতাহতের ঝুঁকির কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন সম্ভব।
২০২৫ সালের জুনের শুরুতে আইএইএ এ তথ্য প্রকাশের পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ১২ দিনের ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
এদিকে ইরানের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থান এখনও অজানা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান হলো, সামরিক পদক্ষেপ নয়; বরং কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইরান যেন এই ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে।