বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থের অভাবে মাকে মাঠে আনতে পারিনি: কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় অঘটনের এই ম্যাচে নায়ক হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।

ম্যাচ শেষে শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা তাকে ঘিরে সান্ত্বনা দিলেও চোখের জল থামাতে পারেননি এই গোলরক্ষক।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন ভোজিনিয়া। তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ কেপ ভার্দেকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে ভোজিনিয়া জানান, তার আবেগের পেছনে ছিল ব্যক্তিগত বেদনা ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি। তিনি বলেন, ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন, কিন্তু জীবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার জন্য তারা আজ বেঁচে নেই। পাশাপাশি ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মা-ও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

ভোজিনিয়ার এই আবেগঘন গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাবেক ফুটবলাররাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারা মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে কেপ ভার্দের এই সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অর্জিত এই ড্র শুধু একটি ফল নয়, বরং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

অভিনেত্রীর আত্মহত্যা, মৃত্যুর আগে প্রেমিকের সঙ্গে স্ক্রীনশট ফাঁস

অর্থের অভাবে মাকে মাঠে আনতে পারিনি: কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

প্রকাশিত সময় : ১১:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় অঘটনের এই ম্যাচে নায়ক হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।

ম্যাচ শেষে শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা তাকে ঘিরে সান্ত্বনা দিলেও চোখের জল থামাতে পারেননি এই গোলরক্ষক।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন ভোজিনিয়া। তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ কেপ ভার্দেকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে ভোজিনিয়া জানান, তার আবেগের পেছনে ছিল ব্যক্তিগত বেদনা ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি। তিনি বলেন, ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন, কিন্তু জীবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার জন্য তারা আজ বেঁচে নেই। পাশাপাশি ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মা-ও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

ভোজিনিয়ার এই আবেগঘন গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাবেক ফুটবলাররাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারা মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে কেপ ভার্দের এই সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অর্জিত এই ড্র শুধু একটি ফল নয়, বরং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।