প্রকাশিত সময় :
০৯:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
৭
দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলার পর অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণহানির পাশাপাশি সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় হাজারো বেসামরিক মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশে পালিয়ে যেতে শুরু করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। হামলার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করছেন।
শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের টাইর ও সাইদা শহরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়েহ সেতু দিয়ে হাজারো মানুষ উত্তরাঞ্চলের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এতে প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সাম্প্রতিক হামলার পর সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তাই সম্ভাব্য নতুন হামলার আগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নেতাদের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতার আলোচনা হলেও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতিতে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বরং সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে তাদের কয়েকজন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন। এর ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে নতুন মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কাঠামোর আওতায় লেবানন থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চুক্তির বাধ্যতামূলক অংশ নয়। পাশাপাশি আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখার বিষয়েও ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন করেছে ওয়াশিংটন।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত ও বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা।