রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স (Bunga Raya Complex)-এর এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী।

এ সময় শিশু মাইসা নুর আইশা ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। স্বাগত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানানো হয় এবং সুসজ্জিত বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার পর্বে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি-লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং সফরসঙ্গীরা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি-লা হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর এই আনুষ্ঠানিক সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানাবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সেখানে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা জোরদারে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জাহিদ হাসানের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা, তবে ট্রফি দেখতে চান অন্য হাতে

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স (Bunga Raya Complex)-এর এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী।

এ সময় শিশু মাইসা নুর আইশা ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। স্বাগত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানানো হয় এবং সুসজ্জিত বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার পর্বে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি-লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং সফরসঙ্গীরা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি-লা হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর এই আনুষ্ঠানিক সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানাবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সেখানে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা জোরদারে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।