বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির বিশ্বরেকর্ড, গুগলের বিশেষ সেলিব্রেশন

গুগলে এখন বাংলায় ‘লিওনেল মেসি’ কিংবা ইংরেজীতে ‘Lionel Messi’, ‘Messi Top Scorer’ কিংবা শুধু ‘মেসি’ লিখে সার্চ করলেই দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সার্চ ফলাফলের পর্দাজুড়ে ভেসে উঠছে ঝলমলে ভার্চুয়াল আতশবাজি। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের কাছেই এটি বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।

গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার দুই গোলই করেছেন লিওনেল মেসি। সেই জোড়া গোলের সুবাদে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। এত দিন এই রেকর্ড ছিল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে, যার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১৬।

 

 

 

প্রায় ৩৯ বছর বয়সেও মেসির এমন কীর্তি ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে বিস্মিত করেছে। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে তিনি শুধু নিজের কিংবদন্তি মর্যাদাকেই আরও উঁচুতে নিয়ে যাননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও স্থাপন করেছেন নতুন মানদণ্ড। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর দুই দশকজুড়ে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে গড়া এই রেকর্ডকে অনেকেই ফুটবলের অন্যতম দুর্লভ অর্জন হিসেবে দেখছেন।

মজার বিষয় হলো, মেসির এই রেকর্ড গড়ার দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টাইন ফুটবলের আরেক ঐতিহাসিক স্মৃতি। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়াগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ঠিক এর ৪০ বছর পর একই দিনে মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ঘটনা আর্জেন্টিনার ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে যেন এক প্রতীকী সংযোগ তৈরি করেছে।

মেসির এই অনন্য অর্জনকে উদ্‌যাপন করতেই গুগল তাদের বৈশ্বিক সার্চ প্ল্যাটফর্মে বিশেষ ইন্টারেক্টিভ সেলিব্রেশন ফিচার চালু করেছে। সাধারণত বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বা বিশেষ অর্জনকে সামনে রেখে গুগল এ ধরনের ডিজিটাল উদ্‌যাপনের আয়োজন করে থাকে। মেসির নতুন বিশ্বরেকর্ড সেই স্বীকৃতিই পেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টটির কাছ থেকে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ খেলা নিশ্চিত করেছে। দলটির সামনে এখন আরও ম্যাচ বাকি। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ডকে আরও কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন মেসি, সেটিই এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লেখা এক অসাধারণ যাত্রার নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে এই রেকর্ডে। আর সেই অর্জনের আনন্দেই আজ গুগলের পর্দাজুড়ে ফুটছে আতশবাজি, আর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলভক্ত উদ্‌যাপন করছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক মুহূর্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হাসিনাসহ ১০ জনের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করতে পুলিশে দুদকের আবেদন

মেসির বিশ্বরেকর্ড, গুগলের বিশেষ সেলিব্রেশন

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গুগলে এখন বাংলায় ‘লিওনেল মেসি’ কিংবা ইংরেজীতে ‘Lionel Messi’, ‘Messi Top Scorer’ কিংবা শুধু ‘মেসি’ লিখে সার্চ করলেই দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সার্চ ফলাফলের পর্দাজুড়ে ভেসে উঠছে ঝলমলে ভার্চুয়াল আতশবাজি। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের কাছেই এটি বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।

গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার দুই গোলই করেছেন লিওনেল মেসি। সেই জোড়া গোলের সুবাদে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। এত দিন এই রেকর্ড ছিল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে, যার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১৬।

 

 

 

প্রায় ৩৯ বছর বয়সেও মেসির এমন কীর্তি ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে বিস্মিত করেছে। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে তিনি শুধু নিজের কিংবদন্তি মর্যাদাকেই আরও উঁচুতে নিয়ে যাননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও স্থাপন করেছেন নতুন মানদণ্ড। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর দুই দশকজুড়ে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে গড়া এই রেকর্ডকে অনেকেই ফুটবলের অন্যতম দুর্লভ অর্জন হিসেবে দেখছেন।

মজার বিষয় হলো, মেসির এই রেকর্ড গড়ার দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টাইন ফুটবলের আরেক ঐতিহাসিক স্মৃতি। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়াগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ঠিক এর ৪০ বছর পর একই দিনে মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ঘটনা আর্জেন্টিনার ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে যেন এক প্রতীকী সংযোগ তৈরি করেছে।

মেসির এই অনন্য অর্জনকে উদ্‌যাপন করতেই গুগল তাদের বৈশ্বিক সার্চ প্ল্যাটফর্মে বিশেষ ইন্টারেক্টিভ সেলিব্রেশন ফিচার চালু করেছে। সাধারণত বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা বা বিশেষ অর্জনকে সামনে রেখে গুগল এ ধরনের ডিজিটাল উদ্‌যাপনের আয়োজন করে থাকে। মেসির নতুন বিশ্বরেকর্ড সেই স্বীকৃতিই পেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টটির কাছ থেকে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ খেলা নিশ্চিত করেছে। দলটির সামনে এখন আরও ম্যাচ বাকি। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ডকে আরও কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন মেসি, সেটিই এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লেখা এক অসাধারণ যাত্রার নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে এই রেকর্ডে। আর সেই অর্জনের আনন্দেই আজ গুগলের পর্দাজুড়ে ফুটছে আতশবাজি, আর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলভক্ত উদ্‌যাপন করছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক মুহূর্ত।