শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এ সদস্য এসব কথা বলেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। জামায়াতে ইসলামী কি ইসলামী দল, না অন্য কিছু সেটার ফতোয়া দেওয়ার দরকার নাই।’
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘তাই আমাদের চট্টগ্রামে এখন বলতেছে, হাল জামানার মুফতি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। আরেকটা বললাম না। আলিফ-বা-তা জানেন না।’
এরপর বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে বলেন, ‘তর্ক উত্থাপন করে সংসদকে উত্তপ্ত করতে চাই না। শুধু একটা বলতে চাই, নিজের কথা নিজেরাই বিচার করেন। আপনারা একাত্তর সালে কোথায় ছিলেন? নিজেরাই বিচার করেন। আমাদের বলা দরকার নাই, আপনি একটু তাকান, মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে। সে স্বাধীনতার একদিন আগে কারা সংগঠিত করেছে হত্যাকাণ্ড, কেন কারা বুদ্ধিজীবীশূন্য করতে চেয়েছিল বাংলাদেশকে?’
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জয়নুল আবদিন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদ হয়েছে, যারা আহত হয়েছে, তাদের অবশ্যই আমরা স্মরণ করব। কিন্তু একাত্তরকে ভোলা যাবে না।’
বাজারে চালসহ সব ধরনের দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে বলে দাবি করেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এটাকে ঠিক করা হচ্ছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে ছিলাম। এই জন্য দীর্ঘ মেয়াদি সংরক্ষণে নজর দিয়েছি। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি যত দৃঢ় হবে ততই মূল্যস্ফীতি কমবে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য স্ফীতিশীল আছে। হঠাৎ করে বলা হলো চালের দাম বেড়ে গেছে। আমরা বাজারে দেখলাম চালের দাম স্থিতিশীল।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে আঙুর, স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডো চাষ হচ্ছে। মানুষকে কাজ করার সুযোগ দিলে দেশ আরও উন্নত হবে।’
সুশাসন প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বারি বলেন, ‘কথা আসছে সুশাসন নিয়ে। সকল নিয়োগ পদায়নে সততা দক্ষতা মেধার ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেধাবী সৎ দক্ষ প্রশাসন ছাড়া এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ১৭ বছর প্রশাসন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা থেকে উত্তরণে আমরা কাজ করছি। বাজেটের একটা টাকাও যেন অপচয় না হয় সেই বিষয়ে দেখা হচ্ছে। বাজেটের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার হলে কর্মসংস্থান ও দেশে আয় বাড়বে। এর ফলে আমরা উন্নত দেশে এগিয়ে যেতে পারব।’
অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থবছর এইভাবে জুন-জুলাই না করে আগামী থেকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করা যায় কি না। যদি এভাবে করা যায় এবং আমাদের প্রতি তিন মাস অন্তর, ছয় মাস অন্তর যদি বাজেট নিয়ে বসি, যদি রাজস্ব আদায় নিয়ে আলোচনা করি, যদি সংসদে ছয় মাস অন্তর একটি ব্রিফ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে আমার মনে হয় অনেকটা স্বচ্ছতা আসবে, জবাবদিহি আসবে।’
মো. শাহজাহান বলেন, ‘অতীতের সংস্কৃতি ছিল—উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি। যার কারণে আমরা আজকে দেশকে ধ্বংস করে ফেলেছি। আজকে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু আমরা সে টাকার বিনিময়ে আসলে অবকাঠামোগত কোনো সুবিধা পাইনি। সকল ক্ষেত্রে আজকে একবারে দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে।’

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























