শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল ভারত-পাকিস্তানও

আফগানিস্তানে আঘাত হেনেছে ৬.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভূকম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও স্বাচ্ছন্দ্যে অনুভূত হয়েছে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই কম্পনের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পটির মূল কেন্দ্র ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে। শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং উত্তর পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। একই সাথে ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই ভূকম্পনে দিল্লির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন।

ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিন্দুকুশ অঞ্চলটি মূলত ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি বিশাল প্লেটের অনবরত পারস্পরিক সংঘর্ষের কারণে হিন্দুকুশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং বিপজ্জনক ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভৌগোলিক এই সংবেদনশীল অবস্থানের কারণেই আফগানিস্তান ও এর আশেপাশের অঞ্চলে প্রায়শই এমন শক্তিশালী ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল ভারত-পাকিস্তানও

প্রকাশিত সময় : ১০:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
আফগানিস্তানে আঘাত হেনেছে ৬.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভূকম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও স্বাচ্ছন্দ্যে অনুভূত হয়েছে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই কম্পনের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পটির মূল কেন্দ্র ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে। শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং উত্তর পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। একই সাথে ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই ভূকম্পনে দিল্লির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন।

ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিন্দুকুশ অঞ্চলটি মূলত ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি বিশাল প্লেটের অনবরত পারস্পরিক সংঘর্ষের কারণে হিন্দুকুশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং বিপজ্জনক ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভৌগোলিক এই সংবেদনশীল অবস্থানের কারণেই আফগানিস্তান ও এর আশেপাশের অঞ্চলে প্রায়শই এমন শক্তিশালী ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।