একদিকে এমবাপের অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স, অন্যদিকে জার্মান বধের নায়ক প্যারাগুয়ে! ফিলাডেলফিয়ায় লেখা হবে আরেকটি রূপকথা, নাকি শেষ হবে স্বপ্নযাত্রা?
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো শুধু দুটি দলের লড়াই নয়। সেগুলো হয়ে ওঠে স্বপ্ন আর বাস্তবতার সংঘর্ষ। ফিলাডেলফিয়ায় প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্সের শেষ ষোলোর লড়াইটাও ঠিক তেমনই।
একদিকে এমন একটি দল, যারা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিয়ে এগিয়ে চলেছে। অন্যদিকে যাদের কেউ হিসাবেই রাখেনি, তারাই চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকেই বিদায় করে দিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।
জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়টা ছিল সাহস, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাসের গল্প। ১২০ মিনিট ধরে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তারা ম্যাচ নিয়ে যায় টাইব্রেকারে। সেখানেও ছিল নাটক, ছিল পেনাল্টি মিসের হতাশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোসে কানালের শান্ত মাথার শটেই শুরু হয় উদযাপন। পুরো প্যারাগুয়ে তখন বিশ্বাস করতে শুরু করে, অসম্ভবও সম্ভব।

কিন্তু বিশ্বকাপ কাউকে দীর্ঘ সময় স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেয় না। মাত্র কয়েক দিন পরই তাদের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে আরও বড় এক পর্বত। সেই পর্বতের নাম ফ্রান্স।
দিদিয়ের দেশমের দল যেন এই বিশ্বকাপে ফুটবলকে খুব সহজ করে ফেলেছে। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল, তারপর সুইডেনের বিপক্ষে অনায়াস জয়। এখন পর্যন্ত ১৩ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল তারাই। আক্রমণভাগের কার্যকারিতায় তারা সেরাদের কাতারে, প্রত্যাশিত গোলের হিসেবে শুধু ব্রাজিল সামান্য এগিয়ে।
এই ফ্রান্সকে আলাদা করে তোলে শুধু পরিসংখ্যান নয়, তাদের আক্রমণের বৈচিত্র্য। এক পাশে এমবাপে। নকআউটে গোল করাকে যিনি অভ্যাসে পরিণত করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে ১০ গোল নিয়ে ইতোমধ্যেই নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। অন্য পাশে উসমান দেম্বেলের গতি, মাইকেল অলিজের নিখুঁত পাস, যার ঝুলিতে ইতোমধ্যে পাঁচটি অ্যাসিস্ট। আর দেজিরে দুয়ে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলা, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

দেশমের দলকে দেখে মনে হয় না তারা খেলছে, বরং প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করছে। তবে প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়তো ফ্রান্স নয়, নিজেদের শরীর। জার্মানির বিপক্ষে ১২০ মিনিটের ক্লান্তিকর লড়াই খেলোয়াড়দের নিঃশেষ করে দিয়েছে। যদিও একদিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছে তারা, তবু সেই ধকল কাটিয়ে এমবাপের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সহজ হবে না।
তবু আশার আলোও আছে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ওমার আলদেরেতে ফিরতে পারেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে দলে ফিরছেন দিয়েগো গোমেজ। আর সামনে থাকবেন হুলিও এনসিসো ও মিগেল আলমিরন। জার্মানির বিপক্ষে যাদের প্রতিটি দৌড়ে ছিল লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।
ধারণা করা হচ্ছে, আলফারো এবার পাঁচ ডিফেন্ডারের দেয়াল তুলবেন। কারণ তিনি জানেন, এই ফ্রান্সকে খোলা মাঠ দিলে ম্যাচ শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না।
কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যদ্বাণী সব সময় সত্যি হয় না। সৌদি আরব আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। মরক্কো সেমিফাইনাল খেলেছিল। এবার জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। তাহলে কি আরেকটি অঘটনের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব? নাকি এমবাপ্পের ফ্রান্স আবারও প্রমাণ করবে, শিরোপার পথে তাদের থামানোর মতো শক্তি এখনো কেউ হয়ে উঠতে পারেনি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে ফিলাডেলফিয়ার আলো ঝলমলে রাতে। যেখানে একদিকে থাকবে রূপকথা বাঁচিয়ে রাখার লড়াই, অন্যদিকে বিশ্বজয়ের পথে আরেকটি দৃঢ় পদক্ষেপের লক্ষ্য।
সম্ভাব্য একাদশ
প্যারাগুয়ে (৫-৩-২): গিল; কাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ, হোসে কানালে, ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো; মাতিয়াস গালারজা, আন্দ্রেস কুবাস, দিয়েগো গোমেজ; মিগেল আলমিরন, হুলিও এনসিসো।
ফ্রান্স (৪-২-৩-১): মাইক মেনিয়াঁ; জুল কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকা দিন; অরেলিয়ান চুয়ামেনি, আদ্রিয়ান রাবিও; উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে, দেজিরে দুয়ে; কিলিয়ান এমবাপ্পে।

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 






















