বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন চেয়েছি, ষড়যন্ত্র নয়: ডা. শফিকুর রহমান

আমরা দেশে সুনির্দিষ্ট একটি নির্বাচন চেয়েছিলাম, কিন্তু নির্বাচনের নামে কোনো ধরনের চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র চাইনি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের মূল পরিচয় ছিল তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দল-নিরপেক্ষ, তারাও দুর্ভাগ্যবশত এই ষড়যন্ত্রে অংশীদার ছিল। এটা এখন তারাই স্বীকার করেছে যে, চক্রান্তের মাধ্যমে ১১ দলকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে।”

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি করেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, “ষড়যন্ত্রের নির্বাচন জেনেও কেন আমরা এই ফলাফল মেনে নিলাম? এত বছর পর নির্বাচনের নামে যে চক্রান্তের ফসল সামনে এসেছে, তা যদি আমরা সেদিন প্রত্যাখ্যান করতাম—তবে দেশে এক চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। সেই বিশৃঙ্খলার শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা কেউ জানত না। মূলত দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ১১ দল সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, নির্বাচনের এই কারচুপির ফল মেনে নিলেও জনগণের গণভোটের রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না।”

সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের বিষয়ে নিজের দলের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১১ বার আমার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব এসেছে যে—আসেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা যৌথভাবে একটি কমিশন গঠন করি। আমাদের জবাব একদম পরিষ্কার, সংবিধান সংশোধনের জন্য বাড়তি কোনো কমিশনের প্রয়োজন নেই। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি দল ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আনতে পারে, আবার বিরোধী দলও বিল উত্থাপন করতে পারে। সেই বিল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর সংসদে ভোটে যাবে। ভোটে পাস হলে তা কার্যকর হবে। এর জন্য কমিশনের নাটক করার কোনো দরকার নেই। কারণ, সংবিধানে সামান্য কিছু সংশোধনের জন্য এ দেশে গণভোট হয়নি; গণভোট হয়েছে দেশের পচা ও নোংরা রাজনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচন চেয়েছি, ষড়যন্ত্র নয়: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আমরা দেশে সুনির্দিষ্ট একটি নির্বাচন চেয়েছিলাম, কিন্তু নির্বাচনের নামে কোনো ধরনের চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র চাইনি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের মূল পরিচয় ছিল তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দল-নিরপেক্ষ, তারাও দুর্ভাগ্যবশত এই ষড়যন্ত্রে অংশীদার ছিল। এটা এখন তারাই স্বীকার করেছে যে, চক্রান্তের মাধ্যমে ১১ দলকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে।”

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি করেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, “ষড়যন্ত্রের নির্বাচন জেনেও কেন আমরা এই ফলাফল মেনে নিলাম? এত বছর পর নির্বাচনের নামে যে চক্রান্তের ফসল সামনে এসেছে, তা যদি আমরা সেদিন প্রত্যাখ্যান করতাম—তবে দেশে এক চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। সেই বিশৃঙ্খলার শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা কেউ জানত না। মূলত দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ১১ দল সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, নির্বাচনের এই কারচুপির ফল মেনে নিলেও জনগণের গণভোটের রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না।”

সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের বিষয়ে নিজের দলের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১১ বার আমার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব এসেছে যে—আসেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা যৌথভাবে একটি কমিশন গঠন করি। আমাদের জবাব একদম পরিষ্কার, সংবিধান সংশোধনের জন্য বাড়তি কোনো কমিশনের প্রয়োজন নেই। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি দল ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আনতে পারে, আবার বিরোধী দলও বিল উত্থাপন করতে পারে। সেই বিল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর সংসদে ভোটে যাবে। ভোটে পাস হলে তা কার্যকর হবে। এর জন্য কমিশনের নাটক করার কোনো দরকার নেই। কারণ, সংবিধানে সামান্য কিছু সংশোধনের জন্য এ দেশে গণভোট হয়নি; গণভোট হয়েছে দেশের পচা ও নোংরা রাজনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য।”