বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবেরের পর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়লেন জুমা

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। এর আগে একই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের।

বুধবার (৮ জুলাই) নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পৃথক পোস্টে তারা জানান, শহীদ ওসমান হাদীর ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যমান দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল জাবের তার পোস্টে লিখেছেন, শহীদ ওসমান হাদী শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশসংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তিনি লেখেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাবের আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর ঢাকা-৮, সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় ওই হিসাব ব্যতীত তার দায়িত্বকালীন সময়ের অন্যান্য সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইনসাফের লড়াই ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বপ্ন এগিয়ে নিতে সবার দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে, ফাতিমা তাসনিম জুমা তার পোস্টে বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাংলাদেশপন্থি সংস্কৃতির স্বার্থে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর ওয়ারিশসংক্রান্ত জটিলতা সামনে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নানা আলোচনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপে পড়েন।

তিনি পোস্টে লেখেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হলেও, এরপর থেকে তার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জাবেরের পর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়লেন জুমা

প্রকাশিত সময় : ১০:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। এর আগে একই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের।

বুধবার (৮ জুলাই) নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পৃথক পোস্টে তারা জানান, শহীদ ওসমান হাদীর ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যমান দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল জাবের তার পোস্টে লিখেছেন, শহীদ ওসমান হাদী শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশসংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তিনি লেখেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাবের আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর ঢাকা-৮, সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় ওই হিসাব ব্যতীত তার দায়িত্বকালীন সময়ের অন্যান্য সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইনসাফের লড়াই ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বপ্ন এগিয়ে নিতে সবার দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে, ফাতিমা তাসনিম জুমা তার পোস্টে বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাংলাদেশপন্থি সংস্কৃতির স্বার্থে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর ওয়ারিশসংক্রান্ত জটিলতা সামনে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নানা আলোচনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপে পড়েন।

তিনি পোস্টে লেখেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হলেও, এরপর থেকে তার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে।