ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ীকে মাথা থেঁতলে ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী আলোচিত সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে হত্যার মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এই চার্জগঠনের আদেশ দিয়ে আগামী ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক চার্জগঠনের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চার্জগঠন হওয়া আসামিরা হলেন-মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস।
এদের মধ্যে প্রথম ১০ জন কারাগারে ও শেষের ৮ জন পলাতক রয়েছেন। তিন আসামি জামিনে রয়েছেন।
শুনানিকালে জামিনে থাকা তিন আসামি আদালতে হাজির হয়। এ ছাড়া এদিন শুনানিকালে কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। সেই ঘটনার এই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন একসময়। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে এমন ভয়ংকরভাবে কাউকে হত্যা করা হতে পারে, তা পরিচিতজনদের ধারণারও বাইরে।
এ ঘটনায় সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। গত বছর ৮ ডিসেম্বর ২১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান।
তবে চার্জশিটে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় গত ২০ জানুয়ারি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। অধিকতর তদন্তের পর ২১ জনের বিরুদ্ধেই গত ১০ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























