বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ এক দিন কাটাল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে আছে ৯ উইকেট। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান।

শেষ বিকেলে বাংলাদেশের হয়ে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন দুজন। মুমিনুল ৩৫ ও তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত আছেন।

তবে বাংলাদেশের দিনের গল্পের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের পেসারদের মাধ্যমে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হলেও হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের পেস আক্রমণে দ্রুতই চাপে পড়ে তারা। এক পর্যায়ে ৭৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।

দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে শুরুটা করেন হাসান। এরপর মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান ইবাদত। ক্যামেরন গ্রিনকে তুলে নেন তাসকিন। লাঞ্চের পর স্মিথ-ক্যারি জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইবাদতের বলে ক্যারি বোল্ড হওয়ার পর আবারও ভাঙন ধরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে।

এরপর বাউ ওয়েবস্টারকেও ফিরিয়ে দেন তাসকিন। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার লেজ গুটিয়ে দেন হাসান। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

৫৫ রানে ৬ উইকেট নিলেন হাসান মাহমুদ, তাও আবার মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে!

৫৫ রানে ৬ উইকেট নিলেন হাসান মাহমুদ, তাও আবার মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে!

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন তিনি। তাসকিন ও ইবাদত নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে বাংলাদেশের ১০ উইকেটই গেল পেসারদের ঝুলিতে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি লড়েছেন স্টিভেন স্মিথ। ২ রানে তামিম স্লিপে তাঁর ক্যাচ ছেড়ে দিলে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান ৭১ রান করেন। তবে হাসানের বলে তাঁর বিদায়ের পর আর বেশি দূর এগোতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য অস্বস্তির ছিল না। সাদমান ইসলাম ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে আউট হলেও এরপর আর কোনো উইকেট পড়েনি। মুমিনুল ও তানজিদের ব্যাটে স্বস্তির সঙ্গে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

প্রথম দিন শেষে ডারউইন টেস্টের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই। সামনে আরও চার দিন। তবে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে প্রথম দিনেই এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে শান্তদের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের বার্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের

প্রকাশিত সময় : ০৬:২১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ এক দিন কাটাল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে আছে ৯ উইকেট। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান।

শেষ বিকেলে বাংলাদেশের হয়ে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন দুজন। মুমিনুল ৩৫ ও তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত আছেন।

তবে বাংলাদেশের দিনের গল্পের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের পেসারদের মাধ্যমে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হলেও হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের পেস আক্রমণে দ্রুতই চাপে পড়ে তারা। এক পর্যায়ে ৭৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।

দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে শুরুটা করেন হাসান। এরপর মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান ইবাদত। ক্যামেরন গ্রিনকে তুলে নেন তাসকিন। লাঞ্চের পর স্মিথ-ক্যারি জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইবাদতের বলে ক্যারি বোল্ড হওয়ার পর আবারও ভাঙন ধরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে।

এরপর বাউ ওয়েবস্টারকেও ফিরিয়ে দেন তাসকিন। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার লেজ গুটিয়ে দেন হাসান। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

৫৫ রানে ৬ উইকেট নিলেন হাসান মাহমুদ, তাও আবার মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে!

৫৫ রানে ৬ উইকেট নিলেন হাসান মাহমুদ, তাও আবার মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে!

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন তিনি। তাসকিন ও ইবাদত নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে বাংলাদেশের ১০ উইকেটই গেল পেসারদের ঝুলিতে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি লড়েছেন স্টিভেন স্মিথ। ২ রানে তামিম স্লিপে তাঁর ক্যাচ ছেড়ে দিলে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান ৭১ রান করেন। তবে হাসানের বলে তাঁর বিদায়ের পর আর বেশি দূর এগোতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য অস্বস্তির ছিল না। সাদমান ইসলাম ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে আউট হলেও এরপর আর কোনো উইকেট পড়েনি। মুমিনুল ও তানজিদের ব্যাটে স্বস্তির সঙ্গে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

প্রথম দিন শেষে ডারউইন টেস্টের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই। সামনে আরও চার দিন। তবে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে প্রথম দিনেই এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে শান্তদের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের বার্তা।