শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর সঙ্গে রাজশাহীর মাদ্রাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

রাজশাহীর মোহনপুরে এক নারীর সঙ্গে গোলাম মোস্তফা নামের মাদ্রাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জনমিতি সম্পর্কিত ডেটা ও রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

তবে তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন পুরুষ ও একজন নারী একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। ভিডিও ধারণকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই কে?’ ক্যামেরা পুরুষ ব্যক্তির দিকে তাক করা হলে তিনি চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে ফেলেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা, আমি একজন শিক্ষক মানুষ। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়ো না বাবা।’

পরে ভিডিও ধারণকারীরা তার নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘গোলাম মোস্তফা’ বলে পরিচয় দেন। এরপর ভিডিও ধারণকারীদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ করেন তিনি। তবে কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানা সম্ভব হয়নি।

গোলাম মোস্তফা নামে পরিচয় দেওয়া ওই পুরুষ ব্যক্তি মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, গোলাম মোস্তফা প্রায় ২৮ বছর ধরে বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। তার অবসরে যেতে আরও প্রায় পাঁচ বছর বাকি রয়েছে।

গোলাম মোস্তফা এর আগে তার মেয়ের সহপাঠী একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ আছে। বিয়ের প্রায় তিন মাস পর ওই স্ত্রীকে তালাকও দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ এবং ২৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৪ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৯ জন এবং কর্মচারী পাঁচজন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসারুল হক বলেন, বিষয়টি অনেকের মাধ্যমে আমরা জেনেছি। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরকারি নির্বাহী তথ্য অনুসন্ধান করা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ঘটনাটি সঠিক হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ তার বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত হবে। এরপর সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, এটা গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নারীর সঙ্গে রাজশাহীর মাদ্রাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুরে এক নারীর সঙ্গে গোলাম মোস্তফা নামের মাদ্রাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জনমিতি সম্পর্কিত ডেটা ও রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

তবে তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন পুরুষ ও একজন নারী একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। ভিডিও ধারণকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই কে?’ ক্যামেরা পুরুষ ব্যক্তির দিকে তাক করা হলে তিনি চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে ফেলেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা, আমি একজন শিক্ষক মানুষ। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়ো না বাবা।’

পরে ভিডিও ধারণকারীরা তার নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘গোলাম মোস্তফা’ বলে পরিচয় দেন। এরপর ভিডিও ধারণকারীদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ করেন তিনি। তবে কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানা সম্ভব হয়নি।

গোলাম মোস্তফা নামে পরিচয় দেওয়া ওই পুরুষ ব্যক্তি মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, গোলাম মোস্তফা প্রায় ২৮ বছর ধরে বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। তার অবসরে যেতে আরও প্রায় পাঁচ বছর বাকি রয়েছে।

গোলাম মোস্তফা এর আগে তার মেয়ের সহপাঠী একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ আছে। বিয়ের প্রায় তিন মাস পর ওই স্ত্রীকে তালাকও দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ এবং ২৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৪ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৯ জন এবং কর্মচারী পাঁচজন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসারুল হক বলেন, বিষয়টি অনেকের মাধ্যমে আমরা জেনেছি। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরকারি নির্বাহী তথ্য অনুসন্ধান করা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ঘটনাটি সঠিক হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ তার বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত হবে। এরপর সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, এটা গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।