মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে জামায়াতের মানববন্ধন

বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন : বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার একের পর এক নতুন সমস্যা সৃষ্টি করছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির থাবা দেওয়ার সুযোগ থাকত না। কিন্তু আধিপত্যবাদী শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার কারণে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করছে এবং এর ফল হিসেবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে। জনগণের এসব সমস্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। অথচ সরকার মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির দালালি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় রাজশাহী শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে এ শহরকে অশান্তির শহরে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও রাজশাহী আগের মতো অশান্ত রয়েছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীকে আবার শান্তির শহরে পরিণত করতে হলে সৎ, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগামী দিনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ডা. মো. জাহাঙ্গীরের মতো সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. জাহাঙ্গীর বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। এর ফলে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা রাজশাহীর ফুটপাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। রাজশাহীর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিভাগীয় শহর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। বিভাগীয় স্পোর্টস ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাজশাহীর বাইরে নেওয়া যাবে না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা। বক্তারা বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা অন্তত তিন হাজারে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু এবং জটিল রোগের চিকিৎসায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সৎ, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, তরবিয়ত সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামান, ত্রাণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, আইবিডব্লিউএফ রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি আব্দুল হান্নানসহ মহানগরী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন আলোচনার দরকার নেই

বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে জামায়াতের মানববন্ধন

প্রকাশিত সময় : ০৬:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন : বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার একের পর এক নতুন সমস্যা সৃষ্টি করছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির থাবা দেওয়ার সুযোগ থাকত না। কিন্তু আধিপত্যবাদী শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার কারণে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করছে এবং এর ফল হিসেবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে। জনগণের এসব সমস্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। অথচ সরকার মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির দালালি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় রাজশাহী শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে এ শহরকে অশান্তির শহরে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও রাজশাহী আগের মতো অশান্ত রয়েছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীকে আবার শান্তির শহরে পরিণত করতে হলে সৎ, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগামী দিনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ডা. মো. জাহাঙ্গীরের মতো সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. জাহাঙ্গীর বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। এর ফলে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা রাজশাহীর ফুটপাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। রাজশাহীর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিভাগীয় শহর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। বিভাগীয় স্পোর্টস ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাজশাহীর বাইরে নেওয়া যাবে না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা। বক্তারা বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা অন্তত তিন হাজারে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু এবং জটিল রোগের চিকিৎসায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সৎ, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, তরবিয়ত সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামান, ত্রাণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, আইবিডব্লিউএফ রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি আব্দুল হান্নানসহ মহানগরী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।