রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনিসে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, ফেসবুক লাইভে জানালেন হামলার বর্ণনা

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে উদ্দেশ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন বাঁধন। পরে হামলা ও হেনস্তার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

লাইভে বাঁধন জানান, ভাইয়ের সঙ্গে একটি পার্কে যাওয়ার পর সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাকে ঘিরে ধরেন। তাদের বিরুদ্ধে তার শরীরে পানি ও কোক ছুড়ে মারা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি কানের কাছেও আঘাত করা হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। ওই সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে তিনি সত্যিই অংশ নিয়েছিলেন। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন। এ সময় তারা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন বলে জানান তিনি।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে বাঁধন বাংলাদেশ থেকে গেছেন, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বলেও লাইভে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, রুবাইয়াত হোসেনের বাবা দেশের একজন সাবেক মন্ত্রী ছিলেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের পরও তিনি ওই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন।

হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, তাদের এমন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ঘটনার পর ভেনিসের একটি থানায় বাঁধন অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর তাকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং ফোলা ও লালভাবও লক্ষ্য করা যায়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন বাঁধন। সেই সময়কার ভূমিকার কারণেই ভেনিসে তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কতজন, তালিকায় যারা

ভেনিসে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, ফেসবুক লাইভে জানালেন হামলার বর্ণনা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে উদ্দেশ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন বাঁধন। পরে হামলা ও হেনস্তার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

লাইভে বাঁধন জানান, ভাইয়ের সঙ্গে একটি পার্কে যাওয়ার পর সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাকে ঘিরে ধরেন। তাদের বিরুদ্ধে তার শরীরে পানি ও কোক ছুড়ে মারা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি কানের কাছেও আঘাত করা হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। ওই সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে তিনি সত্যিই অংশ নিয়েছিলেন। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন। এ সময় তারা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন বলে জানান তিনি।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে বাঁধন বাংলাদেশ থেকে গেছেন, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বলেও লাইভে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, রুবাইয়াত হোসেনের বাবা দেশের একজন সাবেক মন্ত্রী ছিলেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের পরও তিনি ওই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন।

হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, তাদের এমন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ঘটনার পর ভেনিসের একটি থানায় বাঁধন অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর তাকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং ফোলা ও লালভাবও লক্ষ্য করা যায়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন বাঁধন। সেই সময়কার ভূমিকার কারণেই ভেনিসে তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।