মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির লাশ হস্তান্তর

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আসাদুল ইসলামের (৩৫) লাশ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার দানাজপুর বিজিবি ক্যাম্প সীমান্ত পিলার ৩৪০/৩-এস এলাকার শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশটি হস্তান্তর করা হয়।

নিহত আসাদুল ইসলাম উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। লাশ হস্তান্তরের সময় দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল আল মুইন, বৈরচুনা বিজিবি তিন ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শাহ আলম, পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাকিমসহ বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষে চাদগাঁও ক্যাম্পের কমান্ডার সূরিয়া পালসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিজিবি নিহতের লাশ তার স্ত্রী ও চাচাতো ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

লাশ হস্তান্তরের আগে রোববার সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৬টার দিকে রামনা-চান্দোহর সীমান্তের পিলার ৩৩৩/২-এস এলাকার শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল আল মুইনের নেতৃত্বে বিজিবির প্রতিনিধিদল এবং ভারতের চাদগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার সূরিয়া পালের নেতৃত্বে বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ভবানীপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল ইসলাম নিহত হন। এ সময় আরও দুই বাংলাদেশি-ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩৪) ও মনসা বর্মনের ছেলে উদা চন্দ্র রায় (৩৫)-আহত হয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন।

এ ছাড়া একই গ্রামের মৃত তাশির উদ্দীনের ছেলে আইয়ুব আলী (৪০) পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আর্জেন্টিনার ৩ ম্যাচের সূচি প্রকাশ, খেলবেন মেসি?

বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির লাশ হস্তান্তর

প্রকাশিত সময় : ১০:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আসাদুল ইসলামের (৩৫) লাশ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার দানাজপুর বিজিবি ক্যাম্প সীমান্ত পিলার ৩৪০/৩-এস এলাকার শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশটি হস্তান্তর করা হয়।

নিহত আসাদুল ইসলাম উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। লাশ হস্তান্তরের সময় দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল আল মুইন, বৈরচুনা বিজিবি তিন ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শাহ আলম, পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাকিমসহ বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষে চাদগাঁও ক্যাম্পের কমান্ডার সূরিয়া পালসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিজিবি নিহতের লাশ তার স্ত্রী ও চাচাতো ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

লাশ হস্তান্তরের আগে রোববার সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৬টার দিকে রামনা-চান্দোহর সীমান্তের পিলার ৩৩৩/২-এস এলাকার শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল আল মুইনের নেতৃত্বে বিজিবির প্রতিনিধিদল এবং ভারতের চাদগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার সূরিয়া পালের নেতৃত্বে বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ভবানীপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল ইসলাম নিহত হন। এ সময় আরও দুই বাংলাদেশি-ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩৪) ও মনসা বর্মনের ছেলে উদা চন্দ্র রায় (৩৫)-আহত হয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন।

এ ছাড়া একই গ্রামের মৃত তাশির উদ্দীনের ছেলে আইয়ুব আলী (৪০) পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।