বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৮

গাজা উপত্যকায় কথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রগুলো। বুধবার উপত্যকাজুড়ে পৃথক হামলায় অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, নিহত সাংবাদিকের নাম মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জার। তবে তিনি কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অফিসটি বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের তালিকায় আল-নাজ্জার ২৬৩তম ব্যক্তি।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা হামলায় আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খৌদারি বলেন, চিকিৎসকদের মতে, আহতদের জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে ওয়াফা আরও জানায়, দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকাতেও ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ভোরে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সাম্প্রতিক হামলায় নিহত এবং একজন আগের আঘাতের কারণে মারা গেছেন।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫,০২৬ জন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।

আল-জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খৌদারি গাজার পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪,০৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা, অর্থাৎ প্রায় দুই লাখ ভবন, কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এসব স্থাপনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৮

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
গাজা উপত্যকায় কথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রগুলো। বুধবার উপত্যকাজুড়ে পৃথক হামলায় অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, নিহত সাংবাদিকের নাম মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জার। তবে তিনি কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অফিসটি বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের তালিকায় আল-নাজ্জার ২৬৩তম ব্যক্তি।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা হামলায় আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খৌদারি বলেন, চিকিৎসকদের মতে, আহতদের জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে ওয়াফা আরও জানায়, দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকাতেও ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ভোরে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সাম্প্রতিক হামলায় নিহত এবং একজন আগের আঘাতের কারণে মারা গেছেন।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫,০২৬ জন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।

আল-জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খৌদারি গাজার পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪,০৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা, অর্থাৎ প্রায় দুই লাখ ভবন, কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এসব স্থাপনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আল জাজিরা