শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ নভেম্বরের প্রকৃত স্বাধীনতা ফিরে পায় জাতি: রিজভী

৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার খুঁজে পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে পুরো জাতি নতুন করে পথের দিশা পেয়েছিল।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হলো মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনা। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই দেশের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার খুঁজে পেয়েছিল। ৭ নভেম্বরের চেতনা মুক্তির চেতনা, গণতন্ত্রের চেতনা, স্বাধীনতা রক্ষার চেতনা এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনা। এই চেতনায় জাতি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

রিজভীর ভাষ্য, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনেও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। ৭ নভেম্বরের তিন অঙ্গীকার—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা। এই প্রত্যয় নিয়েই জুলাইয়ে এ দেশের মানুষ বিপ্লবে নেমে আসে এবং গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করে।’

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি মাত্র দুই-তিন মিনিটের মধ্যে পুরো জাতিকে চিরতরে শৃঙ্খলিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নিজেদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও রক্তপাতের ঘটনায় দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুরো দেশ অনিশ্চয়তা ও অন্ধকারে ঢেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, ২৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বন্দি করে রাখা হয়। এতে স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা হতাশায় পরিণত হয়। দেশের মানুষ চরম অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাওয়া নির্দেশনায় ঘাতকরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল-বোমা ফোটানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নির্দেশ আসছে। এখানে বসে টাকা-পয়সা দিয়ে ঘাতকরা এ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। জনগণ উপযুক্তভাবেই তাদের প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে প্রস্তুত।’

সবশেষে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রস্তুত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৭ নভেম্বরের প্রকৃত স্বাধীনতা ফিরে পায় জাতি: রিজভী

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার খুঁজে পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে পুরো জাতি নতুন করে পথের দিশা পেয়েছিল।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হলো মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনা। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই দেশের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার খুঁজে পেয়েছিল। ৭ নভেম্বরের চেতনা মুক্তির চেতনা, গণতন্ত্রের চেতনা, স্বাধীনতা রক্ষার চেতনা এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনা। এই চেতনায় জাতি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

রিজভীর ভাষ্য, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনেও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। ৭ নভেম্বরের তিন অঙ্গীকার—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা। এই প্রত্যয় নিয়েই জুলাইয়ে এ দেশের মানুষ বিপ্লবে নেমে আসে এবং গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করে।’

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি মাত্র দুই-তিন মিনিটের মধ্যে পুরো জাতিকে চিরতরে শৃঙ্খলিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নিজেদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও রক্তপাতের ঘটনায় দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুরো দেশ অনিশ্চয়তা ও অন্ধকারে ঢেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, ২৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বন্দি করে রাখা হয়। এতে স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা হতাশায় পরিণত হয়। দেশের মানুষ চরম অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাওয়া নির্দেশনায় ঘাতকরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল-বোমা ফোটানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নির্দেশ আসছে। এখানে বসে টাকা-পয়সা দিয়ে ঘাতকরা এ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। জনগণ উপযুক্তভাবেই তাদের প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে প্রস্তুত।’

সবশেষে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রস্তুত রয়েছে।