শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাবুল ছাড়লো যুক্তরাষ্ট্র, বিমানবন্দরে তালেবান

সোমবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের মাটি ছাড়লো মার্কিন সেনা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ে তালেবান।

বারোটা বাজার এক মিনিট আগে শেষ মার্কিন বিমান সমস্ত সেনাকে নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে উড়ে যায়। শেষ হলো ২০ বছরের যুদ্ধ। তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুল বিমানবন্দর এখন তাদের হাতে। এতদিনে আফগানিস্তান সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন হলো। খবর ডয়েচে ভেলের।

মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কম্যান্ড কম্যান্ডার জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ”শেষ মার্কিন বিমান আফগানিস্তানের মাটি ছেড়েছে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে অ্যামেরিকার মিলিটারি মিশন শেষ হলো। মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফেরানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তারও সমাপ্তি ঘটল।”

ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, মার্কিন এবং যৌথবাহিনীর সেনা সব মিলিয়ে গত দুই সপ্তাহে অন্তত এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে আফগানিস্তান থেকে অন্য দেশে পাঠিয়েছে। তবে সকলকে উদ্ধার করা যায়নি বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি।

ম্যাকেঞ্জির বিবৃতির কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন আরো একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, দুইশর কম কিন্তু একশর বেশি মার্কিন নাগরিককে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা যায়নি। তারা আফগানিস্তান ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে মার্ক্নি সেনা তাদের উদ্ধার করতে পারেনি।

তালেবানের উৎসব

শেষ মার্কিন বিমান কাবুল বিমানবন্দর ছাড়তেই সেখানে ঢুকে পড়ে তালেবান যোদ্ধারা। শুরু হয় উৎসব। গোটা কাবুল জুড়েই আকাশে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা যায়। কাবুল বিমানবন্দরের ভিতরেও তারা শূন্যে গুলি চালিয়ে উৎসব করে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ”মার্কিন সেনা কাবুল বিমানবন্দর ছেড়েছে। আমাদের দেশ এতদিনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পেল।”

ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, ৩১ অগাস্টের মধ্যে অ্যামেরিকা আফগানিস্তান থেকে সমস্ত সেনা সরিয়ে নেবে। বস্তুত এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরো আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

এরই মধ্যে ধীরে ধীরে গোটা আফগানিস্তানের দখল নেয় তালেবান। কাবুল বিমানবন্দর কেবল মার্কিন সেনার হাতে ছিল। গত দুইদিন কাবুল বিমানবন্দরেও নানা ঘটনা ঘটেছে। আইএস-এর ঘটানো বিস্ফোরণে একাধিক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।

ড্রোনের সাহায্যে গাড়িবোমা ধ্বংস করেছে মার্কিন সেনা। যার জেরে সাধারণ মানুষ এবং শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে কাবুল বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক রকেট ছুড়েছে আইএস জঙ্গিরা। তার মধ্যেই শেষ বিমানে সমস্ত মার্কিন সেনা নিয়ে আফগানিস্তান ছাড়ে অ্যামেরিকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কাবুল ছাড়লো যুক্তরাষ্ট্র, বিমানবন্দরে তালেবান

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অগাস্ট ২০২১

সোমবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের মাটি ছাড়লো মার্কিন সেনা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ে তালেবান।

বারোটা বাজার এক মিনিট আগে শেষ মার্কিন বিমান সমস্ত সেনাকে নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে উড়ে যায়। শেষ হলো ২০ বছরের যুদ্ধ। তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুল বিমানবন্দর এখন তাদের হাতে। এতদিনে আফগানিস্তান সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন হলো। খবর ডয়েচে ভেলের।

মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কম্যান্ড কম্যান্ডার জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ”শেষ মার্কিন বিমান আফগানিস্তানের মাটি ছেড়েছে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে অ্যামেরিকার মিলিটারি মিশন শেষ হলো। মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফেরানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তারও সমাপ্তি ঘটল।”

ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, মার্কিন এবং যৌথবাহিনীর সেনা সব মিলিয়ে গত দুই সপ্তাহে অন্তত এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে আফগানিস্তান থেকে অন্য দেশে পাঠিয়েছে। তবে সকলকে উদ্ধার করা যায়নি বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি।

ম্যাকেঞ্জির বিবৃতির কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন আরো একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, দুইশর কম কিন্তু একশর বেশি মার্কিন নাগরিককে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা যায়নি। তারা আফগানিস্তান ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে মার্ক্নি সেনা তাদের উদ্ধার করতে পারেনি।

তালেবানের উৎসব

শেষ মার্কিন বিমান কাবুল বিমানবন্দর ছাড়তেই সেখানে ঢুকে পড়ে তালেবান যোদ্ধারা। শুরু হয় উৎসব। গোটা কাবুল জুড়েই আকাশে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা যায়। কাবুল বিমানবন্দরের ভিতরেও তারা শূন্যে গুলি চালিয়ে উৎসব করে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ”মার্কিন সেনা কাবুল বিমানবন্দর ছেড়েছে। আমাদের দেশ এতদিনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পেল।”

ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, ৩১ অগাস্টের মধ্যে অ্যামেরিকা আফগানিস্তান থেকে সমস্ত সেনা সরিয়ে নেবে। বস্তুত এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরো আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

এরই মধ্যে ধীরে ধীরে গোটা আফগানিস্তানের দখল নেয় তালেবান। কাবুল বিমানবন্দর কেবল মার্কিন সেনার হাতে ছিল। গত দুইদিন কাবুল বিমানবন্দরেও নানা ঘটনা ঘটেছে। আইএস-এর ঘটানো বিস্ফোরণে একাধিক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।

ড্রোনের সাহায্যে গাড়িবোমা ধ্বংস করেছে মার্কিন সেনা। যার জেরে সাধারণ মানুষ এবং শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে কাবুল বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক রকেট ছুড়েছে আইএস জঙ্গিরা। তার মধ্যেই শেষ বিমানে সমস্ত মার্কিন সেনা নিয়ে আফগানিস্তান ছাড়ে অ্যামেরিকা।