বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দাবিবাহর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। স্থানীয় সময় শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর হুররিয়াত ডেইলি নিউজ।

খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়েছে লিবিয়ার।  আগামী ২৪ ডিসেম্বর লিবিয়ায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু নিউজের চিফ রিপোর্টার সরেয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, তুরস্ক এবং লিবিয়ার সম্পর্ক প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও লিবিয়া উসমানীয় খেলাফতের অধীনেই ছিল। কিন্তু কখনোই লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক খুব খারাপ ছিল না।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র গাদ্দাফির পতনের পূর্বে লিবিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ ছিল। তবে তুরস্কের সঙ্গে বর্তমানে লিবিয়ার যে দহরম-মহরম সম্পর্ক সেটি আসলে শুরু হয় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে। লিবিয়ায় তখন চলছিল প্রচণ্ড রকম গৃহযুদ্ধ। একদিকে রাশিয়া, আরব আমিরাত, মিশর ফ্রান্স ও গ্রীসের সমর্থিত সন্ত্রাসী হাফতারের বাহিনী অন্যদিকে রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার।

যুদ্ধে ত্রিপোলি ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এত কোণঠাসা হয়ে পড়ে যে খলিফা হাফতারের সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে পতন ছিল মাত্র সময়ের ব্যাপার।

সেই সময়ে জাতিসংঘের স্বীকৃত সরকারটি বিভিন্ন দেশের কাছে সামরিক সহযোগিতার আবেদন করে। কিন্তু কেউ তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি; বরং দেশটির ওপর জারি করা হয় অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা।

বিশ্বের বড় বড় দেশ যেমন ফ্রান্স, রাশিয়া, আমেরিকা, আরব আমিরাত, মিসর এবং গ্রিস লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ঘাঁটি গেঁড়ে থাকা খলিফা হাফতারকে অস্ত্রশস্ত্র এবং বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। ঠিক ওই সময় পতনের দ্বারপ্রান্তে থাকা লিবিয়ার এই বৈধ সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তুরস্ক। এর পর থেকেই মূলত তুরস্কের সঙ্গে আবারও ঘনিষ্ট সম্পর্কে জড়ায় লিবিয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

প্রকাশিত সময় : ১১:১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ নভেম্বর ২০২১

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দাবিবাহর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। স্থানীয় সময় শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর হুররিয়াত ডেইলি নিউজ।

খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়েছে লিবিয়ার।  আগামী ২৪ ডিসেম্বর লিবিয়ায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু নিউজের চিফ রিপোর্টার সরেয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, তুরস্ক এবং লিবিয়ার সম্পর্ক প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও লিবিয়া উসমানীয় খেলাফতের অধীনেই ছিল। কিন্তু কখনোই লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক খুব খারাপ ছিল না।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র গাদ্দাফির পতনের পূর্বে লিবিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ ছিল। তবে তুরস্কের সঙ্গে বর্তমানে লিবিয়ার যে দহরম-মহরম সম্পর্ক সেটি আসলে শুরু হয় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে। লিবিয়ায় তখন চলছিল প্রচণ্ড রকম গৃহযুদ্ধ। একদিকে রাশিয়া, আরব আমিরাত, মিশর ফ্রান্স ও গ্রীসের সমর্থিত সন্ত্রাসী হাফতারের বাহিনী অন্যদিকে রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার।

যুদ্ধে ত্রিপোলি ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এত কোণঠাসা হয়ে পড়ে যে খলিফা হাফতারের সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে পতন ছিল মাত্র সময়ের ব্যাপার।

সেই সময়ে জাতিসংঘের স্বীকৃত সরকারটি বিভিন্ন দেশের কাছে সামরিক সহযোগিতার আবেদন করে। কিন্তু কেউ তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি; বরং দেশটির ওপর জারি করা হয় অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা।

বিশ্বের বড় বড় দেশ যেমন ফ্রান্স, রাশিয়া, আমেরিকা, আরব আমিরাত, মিসর এবং গ্রিস লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ঘাঁটি গেঁড়ে থাকা খলিফা হাফতারকে অস্ত্রশস্ত্র এবং বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। ঠিক ওই সময় পতনের দ্বারপ্রান্তে থাকা লিবিয়ার এই বৈধ সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তুরস্ক। এর পর থেকেই মূলত তুরস্কের সঙ্গে আবারও ঘনিষ্ট সম্পর্কে জড়ায় লিবিয়া।