বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন

নির্বাচন কমিশন গঠনে (ইসি) রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংলাপে অংশ না নেয়ার কথা জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান যখন কোন সংলাপের আমন্ত্রণ জানান, তখন তাতে সাড়া দেয়া নাগরিক দায়িত্ব বোধের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এই বোধ থেকেই আমরা ২০১২ ও ২০১৭ সালের সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো, আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি। গত দুই কমিশনের অধীনে যে দুটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে এগুলো এতটাই বিতর্কিত ও জালিয়াতিতে পূর্ণ যে, তা জাতি হিসেবে আমাদেরকে চরম হতাশ, বিব্রত ও লজ্জিত করেছে।
চরমোনাই পীর বলেন, হতাশাজনক ব্যাপার হলো, এই ইসির নিয়োগকর্তা মহামান্য প্রেসিডেন্ট এসব কলঙ্কময় নির্বাচনের দায়ে তারই গঠিত কমিশনকে কোনরকম জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি। কোন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে প্রেসিডেন্টের সাথে সংলাপকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়।

তাছাড়া অতীতের দুটি সংলাপে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের গঠনমূলক প্রস্তাবগুলোর কোনটাই মূল্যায়ন করা হয়নি। যে দল তাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করেছে, তিনি সেই দলীয় স্বার্থের বাইরে যেতে পারেননি।
মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মহামান্য প্রেসিডেন্ট সংলাপ নিয়ে দেশের চিন্তাশীল মহল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে আমরা কোন আগ্রই দেখতে পাচ্ছি না। বরং জনগণ মনে করছে, প্রেসিডেন্টের সংলাপে ফলপ্রসূ কিছু হবে না। অতীতের দুটি সংলাপ যেমন জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, চলমান সংলাপেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে জনগণ মনে করে না। অতএব, জনআকাঙ্খার বিপরীতে গিয়ে এমন একটি আবেদনহীন ও তাৎপর্যহীন সংলাপে অংশ নেয়াটা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সঙ্গত মনে করে না।
তিনি আরো বলেন, ফলপ্রসূ সংলাপ হতে হলে সংলাপের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করতে হবে। দেশবাসী মনে করে, নির্বাচন কমিশন গঠন নয় বরং সংলাপ হওয়া উচিৎ নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নিয়ে। দেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে হবে, তা নিয়ে সংলাপ হওয়া উচিৎ।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জানুয়ারী ২০২২
নির্বাচন কমিশন গঠনে (ইসি) রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংলাপে অংশ না নেয়ার কথা জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান যখন কোন সংলাপের আমন্ত্রণ জানান, তখন তাতে সাড়া দেয়া নাগরিক দায়িত্ব বোধের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এই বোধ থেকেই আমরা ২০১২ ও ২০১৭ সালের সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো, আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি। গত দুই কমিশনের অধীনে যে দুটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে এগুলো এতটাই বিতর্কিত ও জালিয়াতিতে পূর্ণ যে, তা জাতি হিসেবে আমাদেরকে চরম হতাশ, বিব্রত ও লজ্জিত করেছে।
চরমোনাই পীর বলেন, হতাশাজনক ব্যাপার হলো, এই ইসির নিয়োগকর্তা মহামান্য প্রেসিডেন্ট এসব কলঙ্কময় নির্বাচনের দায়ে তারই গঠিত কমিশনকে কোনরকম জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি। কোন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে প্রেসিডেন্টের সাথে সংলাপকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়।

তাছাড়া অতীতের দুটি সংলাপে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের গঠনমূলক প্রস্তাবগুলোর কোনটাই মূল্যায়ন করা হয়নি। যে দল তাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করেছে, তিনি সেই দলীয় স্বার্থের বাইরে যেতে পারেননি।
মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মহামান্য প্রেসিডেন্ট সংলাপ নিয়ে দেশের চিন্তাশীল মহল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে আমরা কোন আগ্রই দেখতে পাচ্ছি না। বরং জনগণ মনে করছে, প্রেসিডেন্টের সংলাপে ফলপ্রসূ কিছু হবে না। অতীতের দুটি সংলাপ যেমন জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, চলমান সংলাপেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে জনগণ মনে করে না। অতএব, জনআকাঙ্খার বিপরীতে গিয়ে এমন একটি আবেদনহীন ও তাৎপর্যহীন সংলাপে অংশ নেয়াটা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সঙ্গত মনে করে না।
তিনি আরো বলেন, ফলপ্রসূ সংলাপ হতে হলে সংলাপের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করতে হবে। দেশবাসী মনে করে, নির্বাচন কমিশন গঠন নয় বরং সংলাপ হওয়া উচিৎ নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নিয়ে। দেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে হবে, তা নিয়ে সংলাপ হওয়া উচিৎ।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়।