শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু টানেল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মাণকাজের সমাপ্তি উদযাপনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন

চট্টগ্রামের উন্নয়নে সার্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে চট্টগ্রামকে নতুনভাবে গড়ে তুলে। কর্নফুলী নদী গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। ওয়ান সিটি টু টাউন, এভাবেই গড়ে উঠবে। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। চট্টগ্রামে যোগাযোগটা আরও জোরদার হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, এর ফলে এই এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য তিনি চীন সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতার জন্য নৌ বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের যে উৎসাহ উদ্দীপনা…তারা নিজেদের বাপদাদার জমি ছাড়তেও রাজি। তারা না চাইলে এই প্রকল্প করতে পারতাম না। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মাত্র কয়েকদিন আগে একশ ব্রিজ উদ্বোধন করার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এটা একটা ইতিহাস। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এর ফলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও  উন্নয়ন হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। যেমনটি জাতির পিতা চেয়েছিলেন সেই পথেই আমরা যাত্রা শুরু করেছি। এদেশের দারিদ্র্যতা থাকবে না।

করোনায় সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা এখনো ভালো আছি।

এ সময় দেশবাসী যার যার জায়গা থেকে যা কিছু সম্ভব উৎপাদন করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খাদ্যে যাতে মানুষ কষ্ট না পায় কৃষিকে প্রধান্য দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না।

এ সময় সমালোচকদের জবাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা উন্নয়ন চোখে দেখে না, তাদেরকে চোখের ডাক্তার দেখানো উচিত। আর কেউ যদি চোখ থাকতে অন্ধ হয় তাহলে বলার কিছু নেই। যারা নিজেরাও কিছু করতে পারে না কেউ করলে সেটিও দেখে না। তারা মানুষের কল্যাণে কখনো কাজ করে করবেও না।

কর্নফুলী নদীর তলদেশের নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ পূর্তকাজের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মাণ কাজের সমাপ্তিকে বিরাট অর্জন হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী। পরে দেশও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বঙ্গবন্ধু টানেল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৬:১৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২

দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মাণকাজের সমাপ্তি উদযাপনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন

চট্টগ্রামের উন্নয়নে সার্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে চট্টগ্রামকে নতুনভাবে গড়ে তুলে। কর্নফুলী নদী গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। ওয়ান সিটি টু টাউন, এভাবেই গড়ে উঠবে। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। চট্টগ্রামে যোগাযোগটা আরও জোরদার হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, এর ফলে এই এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য তিনি চীন সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতার জন্য নৌ বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের যে উৎসাহ উদ্দীপনা…তারা নিজেদের বাপদাদার জমি ছাড়তেও রাজি। তারা না চাইলে এই প্রকল্প করতে পারতাম না। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মাত্র কয়েকদিন আগে একশ ব্রিজ উদ্বোধন করার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এটা একটা ইতিহাস। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এর ফলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও  উন্নয়ন হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। যেমনটি জাতির পিতা চেয়েছিলেন সেই পথেই আমরা যাত্রা শুরু করেছি। এদেশের দারিদ্র্যতা থাকবে না।

করোনায় সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা এখনো ভালো আছি।

এ সময় দেশবাসী যার যার জায়গা থেকে যা কিছু সম্ভব উৎপাদন করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খাদ্যে যাতে মানুষ কষ্ট না পায় কৃষিকে প্রধান্য দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না।

এ সময় সমালোচকদের জবাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা উন্নয়ন চোখে দেখে না, তাদেরকে চোখের ডাক্তার দেখানো উচিত। আর কেউ যদি চোখ থাকতে অন্ধ হয় তাহলে বলার কিছু নেই। যারা নিজেরাও কিছু করতে পারে না কেউ করলে সেটিও দেখে না। তারা মানুষের কল্যাণে কখনো কাজ করে করবেও না।

কর্নফুলী নদীর তলদেশের নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ পূর্তকাজের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মাণ কাজের সমাপ্তিকে বিরাট অর্জন হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী। পরে দেশও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।