মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক: রিজভী

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ কেবল কোনো একক রাজনৈতিক ঘটনার স্মারক নয়, বরং নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে মানুষের যে সাহস ও সংহতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করেছে জাতীয় স্বার্থ মুখ্য হলে সব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব। এই সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, সংবিধান সংশোধন বা পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেও দেখা যায় কোনো এক ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটে। তখন শুধু কাগজে লেখা আইন সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য তীব্র আন্দোলন করেছিলেন, আবার পরবর্তীতে নিজের হাতেই তা সংবিধান থেকে মুছে দেন। তাই মূল বিষয়টি কোনো আইনি বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মতাদর্শগত আলোচনা-সমালোচনা বা তর্ক থাকলেও রাজনীতিকদের একটি ‘কমন পয়েন্টে’ আসতেই হবে। সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সে দিকটা মাথায় রেখে কাজ করা জরুরি। মানসিকতার এই পরিবর্তন না হলে সংবিধান সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন—কোনোটিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।

একটি জাতির ভিত্তির বিষয়ে রিজভী বলেন, শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না। তার প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর। জাতীয় স্মৃতি কোনো অতীতচারিতা নয়, এটি আত্মপরিচয়ের ভিত্তি ও নৈতিক চেতনার উৎস। ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা মানে শুধু স্মরণ নয়, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা।’

ছাত্র-তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সাফল্য অর্জনে ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই এবং বুকে একটি আদর্শিক বোধ থাকলে সাফল্য আসবেই।

অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারো করেন এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সাকিব আল হাসানকে টপকে পরীমনির নতুন রেকর্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক: রিজভী

প্রকাশিত সময় : ০৬:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ কেবল কোনো একক রাজনৈতিক ঘটনার স্মারক নয়, বরং নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে মানুষের যে সাহস ও সংহতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করেছে জাতীয় স্বার্থ মুখ্য হলে সব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব। এই সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, সংবিধান সংশোধন বা পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেও দেখা যায় কোনো এক ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটে। তখন শুধু কাগজে লেখা আইন সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য তীব্র আন্দোলন করেছিলেন, আবার পরবর্তীতে নিজের হাতেই তা সংবিধান থেকে মুছে দেন। তাই মূল বিষয়টি কোনো আইনি বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মতাদর্শগত আলোচনা-সমালোচনা বা তর্ক থাকলেও রাজনীতিকদের একটি ‘কমন পয়েন্টে’ আসতেই হবে। সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সে দিকটা মাথায় রেখে কাজ করা জরুরি। মানসিকতার এই পরিবর্তন না হলে সংবিধান সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন—কোনোটিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।

একটি জাতির ভিত্তির বিষয়ে রিজভী বলেন, শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না। তার প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর। জাতীয় স্মৃতি কোনো অতীতচারিতা নয়, এটি আত্মপরিচয়ের ভিত্তি ও নৈতিক চেতনার উৎস। ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা মানে শুধু স্মরণ নয়, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা।’

ছাত্র-তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সাফল্য অর্জনে ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই এবং বুকে একটি আদর্শিক বোধ থাকলে সাফল্য আসবেই।

অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারো করেন এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।