শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জরুরি মুহূর্তে এক ক্লিকে মিলবে অ্যাম্বুলেন্স, অ্যাপ তৈরি করলেন বাগেরহাটের ধিলন

জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে পাওয়ার সমস্যার সমাধানে ‘নিওসেভার’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করেছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ধিলন রায়। ব্যবহারকারীর অবস্থানের কাছাকাছি থাকা অ্যাম্বুলেন্স শনাক্ত করে দ্রুত বুকিংয়ের সুযোগ দেওয়ায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে তার এ উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত একটি জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় দেশসেরা তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘নিওসেভার’। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ পেয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে এক সাক্ষাৎকারে ধিলন রায় তার উদ্ভাবন, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

ধিলন রায় বলেন, দেশে অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স সেবা এখনো ফোনকলনির্ভর।

জরুরি মুহূর্তে রোগী বা স্বজনদের বিভিন্ন নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে হয়। অনেক সময় দ্রুত সাড়া না পাওয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এ বাস্তবতা থেকেই একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফরম তৈরির চিন্তা শুরু হয়।

তিনি জানান, ‘নিওসেভার’ অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র তিনটি ধাপে অ্যাম্বুলেন্স বুক করা যায়।

প্রথমে ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান (লোকেশন) নির্বাচন করবেন। এরপর গন্তব্য নির্ধারণ করবেন। সবশেষে বুকিং নিশ্চিত করলে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সচালকের কাছে অনুরোধ পৌঁছে যাবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রোগী প্রয়োজনীয় পরিবহনসেবা পেতে পারেন।

ধিলন রায়ের ভাষ্য, অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষ সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারেন। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতাদের এই প্ল্যাটফরমের আওতায় আনা হচ্ছে।

ধিলন রায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ধনঞ্জয় রায় এবং মা মীরা রানী বাড়ৈ। তিনি খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

তিনি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব কর্মসূচির আওতায় ‘নিওসেভার’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও বর্তমানে শতাধিক সদস্যের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এ দলে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাম্বুলেন্স সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধিলন রায় বলেন, গত ১৪ জুলাই ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগের এক অনুষ্ঠানে তাকে এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশ থেকে প্রায় ৩০০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একাধিক ধাপে মূল্যায়নের পর ‘নিওসেভার’ শীর্ষ তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়। এই স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে সেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

ধিলন রায়ের ভাষ্য, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে ‘নিওসেভার’-এর ধারণা তৈরি হয়েছিল। এখন এটি একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জরুরি মুহূর্তে এক ক্লিকে মিলবে অ্যাম্বুলেন্স, অ্যাপ তৈরি করলেন বাগেরহাটের ধিলন

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে পাওয়ার সমস্যার সমাধানে ‘নিওসেভার’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করেছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ধিলন রায়। ব্যবহারকারীর অবস্থানের কাছাকাছি থাকা অ্যাম্বুলেন্স শনাক্ত করে দ্রুত বুকিংয়ের সুযোগ দেওয়ায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে তার এ উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত একটি জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় দেশসেরা তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘নিওসেভার’। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ পেয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে এক সাক্ষাৎকারে ধিলন রায় তার উদ্ভাবন, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

ধিলন রায় বলেন, দেশে অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স সেবা এখনো ফোনকলনির্ভর।

জরুরি মুহূর্তে রোগী বা স্বজনদের বিভিন্ন নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে হয়। অনেক সময় দ্রুত সাড়া না পাওয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এ বাস্তবতা থেকেই একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফরম তৈরির চিন্তা শুরু হয়।

তিনি জানান, ‘নিওসেভার’ অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র তিনটি ধাপে অ্যাম্বুলেন্স বুক করা যায়।

প্রথমে ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান (লোকেশন) নির্বাচন করবেন। এরপর গন্তব্য নির্ধারণ করবেন। সবশেষে বুকিং নিশ্চিত করলে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সচালকের কাছে অনুরোধ পৌঁছে যাবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রোগী প্রয়োজনীয় পরিবহনসেবা পেতে পারেন।

ধিলন রায়ের ভাষ্য, অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষ সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারেন। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতাদের এই প্ল্যাটফরমের আওতায় আনা হচ্ছে।

ধিলন রায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ধনঞ্জয় রায় এবং মা মীরা রানী বাড়ৈ। তিনি খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

তিনি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব কর্মসূচির আওতায় ‘নিওসেভার’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও বর্তমানে শতাধিক সদস্যের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এ দলে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাম্বুলেন্স সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধিলন রায় বলেন, গত ১৪ জুলাই ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগের এক অনুষ্ঠানে তাকে এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশ থেকে প্রায় ৩০০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একাধিক ধাপে মূল্যায়নের পর ‘নিওসেভার’ শীর্ষ তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়। এই স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে সেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

ধিলন রায়ের ভাষ্য, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে ‘নিওসেভার’-এর ধারণা তৈরি হয়েছিল। এখন এটি একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।