শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে; তার বাবাও একই কাজ করেছে: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই। যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর শেখ হাসিনার আবার দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ থাকতে পারে না।

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নানা চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। অথচ ওই সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলেও তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
তবে কোনো অন্যায় চাপের কাছে তিনি মাথানত করেননি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের উত্তরাসূরিদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খানকে মানুষ রক্তপিপাসু বলে জানত, শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছেন? শেখ হাসিনা যে কি নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন হবে কিভাবে? ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাদের রক্তের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর রক্তপিপাসুতা। তাহলে রাজনীতিতে কিভাবে ফিরে আসা সম্ভব? হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।
রিজভী বলেন, ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রতিরোধের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনেও মানুষ অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

রুহুল কবির রিজভী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামের সময়কার স্মৃতি কথা তুলে ধরে বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং ছাত্রদের কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান।

রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে; তার বাবাও একই কাজ করেছে: রিজভী

প্রকাশিত সময় : ০৬:০২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই। যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর শেখ হাসিনার আবার দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ থাকতে পারে না।

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নানা চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। অথচ ওই সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলেও তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
তবে কোনো অন্যায় চাপের কাছে তিনি মাথানত করেননি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের উত্তরাসূরিদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খানকে মানুষ রক্তপিপাসু বলে জানত, শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছেন? শেখ হাসিনা যে কি নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন হবে কিভাবে? ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাদের রক্তের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর রক্তপিপাসুতা। তাহলে রাজনীতিতে কিভাবে ফিরে আসা সম্ভব? হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।
রিজভী বলেন, ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রতিরোধের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনেও মানুষ অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

রুহুল কবির রিজভী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামের সময়কার স্মৃতি কথা তুলে ধরে বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং ছাত্রদের কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান।

রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।