শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মৃত্যুর পরের কথা ভেবে প্রতি রাতে কান্নায় ভেঙে পড়ি’

বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা উপহার দিয়ে খ্যাতি কুড়ান বলিউড অভিনেত্রী সানা খান। ২০২০ সালে করোনা সংকটে পড়ে গোটা পৃথিবী। সেই সময়ে আকস্মিকভাবে অভিনয় ও শোবিজ অঙ্গন ছেড়ে ধর্মে মনোযোগী হওয়ার ঘোষণা দেন এই অভিনেত্রী।

জীবনে বড় ধরনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আনার পরও প্রতি রাতে গভীর ভয় তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কয়েক দিন আগে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব তথ্য জানান এই প্রাক্তন অভিনেত্রী।

মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় থাকেন সানা খান। প্রায় প্রতি রাতেই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ বিষয়ে সানা খান বলেন, “প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি কাঁদি। কারণ আমি জানি না আমার শেষ পরিণতি কী হবে!” জীবনযাপন বদলেছেন বলেই নিজেকে কখনো অন্যদের চেয়ে বেশি ধার্মিক বা আধ্যাত্মিক মনে করেন না বলেও জানান সানা খান

হিজাব পরার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সানা খান বলেন, “এটি কারো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত না; বরং শালীন পোশাকের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থেকেই এই পথ বেছে নিয়েছি। বহু বছর আগে আমি বলেছিলাম যে, ‘হিজাব পরব’। কারণ আমি হিজাবকে ভালোবাসি। আমি হিজাবের সৌন্দর্যকে শ্রদ্ধা করি।”

বিনোদন জগতের অন্ধকার দিক নিয়েও কথা বলেন সানা। সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, “বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে অনেক দম্পতিকে দেখেছি, যারা একই অনুষ্ঠানে থেকেও আলাদা আলাদা সময় কাটাতেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করতেন। এসব দৃশ্য আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল—‘সত্যিই ভবিষ্যতে এমন জীবন চাই কি না?”

সানা খান জানান, ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, নতুন উপলব্ধি হয়েছে। অর্থ-খ্যাতি থাকার পরও প্রায়ই অপরাধবোধে ভুগতেন। মনে হতো—তার জীবন এমন এক পথে এগোচ্ছে, যা অন্তর থেকে চান না।

পরে আল্লাহর কাছে সঠিক পথনির্দেশনা, এমন একটি হালাল জীবিকার জন্য দোয়া করেন, যা নিজের বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারেন। তবে অর্থ-খ্যাতি, বিলাসী জীবন ছেড়ে আসা মোটেও সহজ ছিল না। তবু নিজের ঈমান ও বিশ্বাসের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানান সানা খান।

ইন্ডাস্ট্রিতে থাকাকালীন কোরিওগ্রাফার মেলভিন লুইসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সানা খান। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার সঙ্গে ব্রেকআপের খবর দেন। এরপর ফটো শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে লম্বা একটি বিবৃতিতে এই অভিনেত্রী জানান, ইন্ডাস্ট্রি থেকে তিনি অনেক খ্যাতি, সম্মান ও অর্থ উপার্জন করেছেন।

কিন্তু এটিই তার জীবনের লক্ষ্য নয়। তিনি এখন সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ মেনে চলবেন ও মানুষের সেবা করবেন। একই বছরের শেষের দিকে মুফতি আনাস সৈয়দকে বিয়ে করে চমকে দেন সানা খান। এ দম্পতির দুটো সন্তান রয়েছে।

২০০৫ সালে ‘ইয়ে হি হাই সোসাইটি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সানা খানের। পরের বছরই ‘ই’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। যদিও সিনেমাটির একটি গানে দেখা যায় তাকে।

পরবর্তীতে বলিউডের ‘হাল্লা বোল’, ‘জয় হো’, ‘ওয়াজাহ তুম হো’, ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন সানা খান। তাছাড়া ‘বিগ বস’-এর পাশাপাশি ‘খতরো কে খিলাড়ি’ রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নেন এই অভিনেত্রী।

সূত্র: সিয়াসাত ডটকম

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

‘মৃত্যুর পরের কথা ভেবে প্রতি রাতে কান্নায় ভেঙে পড়ি’

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা উপহার দিয়ে খ্যাতি কুড়ান বলিউড অভিনেত্রী সানা খান। ২০২০ সালে করোনা সংকটে পড়ে গোটা পৃথিবী। সেই সময়ে আকস্মিকভাবে অভিনয় ও শোবিজ অঙ্গন ছেড়ে ধর্মে মনোযোগী হওয়ার ঘোষণা দেন এই অভিনেত্রী।

জীবনে বড় ধরনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আনার পরও প্রতি রাতে গভীর ভয় তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কয়েক দিন আগে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব তথ্য জানান এই প্রাক্তন অভিনেত্রী।

মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় থাকেন সানা খান। প্রায় প্রতি রাতেই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ বিষয়ে সানা খান বলেন, “প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি কাঁদি। কারণ আমি জানি না আমার শেষ পরিণতি কী হবে!” জীবনযাপন বদলেছেন বলেই নিজেকে কখনো অন্যদের চেয়ে বেশি ধার্মিক বা আধ্যাত্মিক মনে করেন না বলেও জানান সানা খান

হিজাব পরার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সানা খান বলেন, “এটি কারো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত না; বরং শালীন পোশাকের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থেকেই এই পথ বেছে নিয়েছি। বহু বছর আগে আমি বলেছিলাম যে, ‘হিজাব পরব’। কারণ আমি হিজাবকে ভালোবাসি। আমি হিজাবের সৌন্দর্যকে শ্রদ্ধা করি।”

বিনোদন জগতের অন্ধকার দিক নিয়েও কথা বলেন সানা। সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, “বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে অনেক দম্পতিকে দেখেছি, যারা একই অনুষ্ঠানে থেকেও আলাদা আলাদা সময় কাটাতেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করতেন। এসব দৃশ্য আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল—‘সত্যিই ভবিষ্যতে এমন জীবন চাই কি না?”

সানা খান জানান, ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, নতুন উপলব্ধি হয়েছে। অর্থ-খ্যাতি থাকার পরও প্রায়ই অপরাধবোধে ভুগতেন। মনে হতো—তার জীবন এমন এক পথে এগোচ্ছে, যা অন্তর থেকে চান না।

পরে আল্লাহর কাছে সঠিক পথনির্দেশনা, এমন একটি হালাল জীবিকার জন্য দোয়া করেন, যা নিজের বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারেন। তবে অর্থ-খ্যাতি, বিলাসী জীবন ছেড়ে আসা মোটেও সহজ ছিল না। তবু নিজের ঈমান ও বিশ্বাসের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানান সানা খান।

ইন্ডাস্ট্রিতে থাকাকালীন কোরিওগ্রাফার মেলভিন লুইসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সানা খান। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার সঙ্গে ব্রেকআপের খবর দেন। এরপর ফটো শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে লম্বা একটি বিবৃতিতে এই অভিনেত্রী জানান, ইন্ডাস্ট্রি থেকে তিনি অনেক খ্যাতি, সম্মান ও অর্থ উপার্জন করেছেন।

কিন্তু এটিই তার জীবনের লক্ষ্য নয়। তিনি এখন সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ মেনে চলবেন ও মানুষের সেবা করবেন। একই বছরের শেষের দিকে মুফতি আনাস সৈয়দকে বিয়ে করে চমকে দেন সানা খান। এ দম্পতির দুটো সন্তান রয়েছে।

২০০৫ সালে ‘ইয়ে হি হাই সোসাইটি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সানা খানের। পরের বছরই ‘ই’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। যদিও সিনেমাটির একটি গানে দেখা যায় তাকে।

পরবর্তীতে বলিউডের ‘হাল্লা বোল’, ‘জয় হো’, ‘ওয়াজাহ তুম হো’, ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন সানা খান। তাছাড়া ‘বিগ বস’-এর পাশাপাশি ‘খতরো কে খিলাড়ি’ রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নেন এই অভিনেত্রী।

সূত্র: সিয়াসাত ডটকম