বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা আসছেন কাতারের আমির, হতে পারে ১০ চুক্তি

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে অন্তত ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কাতারের আমিরের আগামী ২২ এপ্রিল ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রায় দুই দশক বিরতির পর কাতারের কোনো আমিরের এ সফরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর। দুই দেশের সম্পর্কের পরিধির বাইরে আমিরের এ সফর রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘কাতারের আমিরের গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ৮ থেকে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরে আবারও কাতারের আমিরের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে করে আগামীতে কাতারের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশিদের আরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সফর বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও শুধুমাত্র দুই দেশের সরকার ছাড়াও তাদের নাগরিকদের মধ্যেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

আমিরের এই ঐতিহাসিক সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আমিরের বাংলাদেশ সফরের খবরে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই সফর দুই দেশের মধ্যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জন্য কাতার একটি চমৎকার বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ঔষধসহ আরও অনেক কিছু এই দেশটিতে রপ্তানি করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও জনশক্তি রপ্তানিতে প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স পাঠানোর সুযোগ আছে। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে জোরাল নজর দিতে আহ্বান জানান কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কাতারের মেঘনা কার শোরুমের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমিরের বাংলাদেশ সফর আমাদের প্রবাসীদের জন্য অনেক আনন্দের বিষয়। এই সফর কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আগামীতে সম্মান বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি।’

এছাড়া আরেক বাংলাদেশি বোরকা ব্যবসায়ী হাজী বাসার সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতার আমিরের হতে যাওয়া অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুইদেশের দ্বিপক্ষীয় চলমান বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যেন বেশি গুরুত্ব পায়। এমনটাই আমার প্রত্যাশা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা আসছেন কাতারের আমির, হতে পারে ১০ চুক্তি

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে অন্তত ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কাতারের আমিরের আগামী ২২ এপ্রিল ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রায় দুই দশক বিরতির পর কাতারের কোনো আমিরের এ সফরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর। দুই দেশের সম্পর্কের পরিধির বাইরে আমিরের এ সফর রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘কাতারের আমিরের গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ৮ থেকে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরে আবারও কাতারের আমিরের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে করে আগামীতে কাতারের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশিদের আরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সফর বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও শুধুমাত্র দুই দেশের সরকার ছাড়াও তাদের নাগরিকদের মধ্যেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

আমিরের এই ঐতিহাসিক সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আমিরের বাংলাদেশ সফরের খবরে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই সফর দুই দেশের মধ্যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জন্য কাতার একটি চমৎকার বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ঔষধসহ আরও অনেক কিছু এই দেশটিতে রপ্তানি করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও জনশক্তি রপ্তানিতে প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স পাঠানোর সুযোগ আছে। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে জোরাল নজর দিতে আহ্বান জানান কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কাতারের মেঘনা কার শোরুমের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমিরের বাংলাদেশ সফর আমাদের প্রবাসীদের জন্য অনেক আনন্দের বিষয়। এই সফর কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আগামীতে সম্মান বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি।’

এছাড়া আরেক বাংলাদেশি বোরকা ব্যবসায়ী হাজী বাসার সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতার আমিরের হতে যাওয়া অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুইদেশের দ্বিপক্ষীয় চলমান বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যেন বেশি গুরুত্ব পায়। এমনটাই আমার প্রত্যাশা।’