শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৯১তম মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোল করেন মেরিনো। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নাটকীয় ২-১ ব্যবধানের জয়েও শেষ সময়ে গোল করে আবারও নায়ক বনে যান তিনি। দুই ম্যাচেই স্পেনের ত্রাতার ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।
মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোল করার অভ্যাস অবশ্য নতুন নয়। গত তিন মৌসুমে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও আর্সেনালের হয়ে, পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর তিনি করেছেন ১২টি গোল। একজন মিডফিল্ডারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন।
এই ১২ গোলের মধ্যে ৮টিই সরাসরি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে। কখনও দলকে সমতায় ফিরিয়েছে, আবার কখনও এনে দিয়েছে অমূল্য জয়। সর্বশেষ বেলজিয়ামের বিপক্ষেও সেই পরিচিত দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে গোল করে আবারও স্পেনকে রক্ষা করেছেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন মেরিনো। গত সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসলের বিপক্ষে আর্সেনালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেস্টার সিটির বিপক্ষেও ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ১১৯তম মিনিটে করা তার স্মরণীয় গোল স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিল।
শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গুরুত্বপূর্ণ গোল
রিয়াল সোসিয়েদাদ বনাম মায়োর্কা (২০২৪) — ৯৩তম মিনিট (২-১)
স্পেন বনাম জার্মানি (২০২৪) — ১১৯তম মিনিট (২-১)
আর্সেনাল বনাম লেস্টার সিটি (২০২৫) — ৮৭তম মিনিট (২-০)
স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস (২০২৫) — ৯৩তম মিনিট (২-২)
আর্সেনাল বনাম নিউক্যাসল (২০২৫) — ৮৪তম মিনিট (২-০)
আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২০২৬) — ৮৪তম মিনিট (৩-২)
স্পেন বনাম পর্তুগাল (২০২৬ বিশ্বকাপ) — ৯১তম মিনিট (১-০)
স্পেন বনাম বেলজিয়াম (২০২৬ বিশ্বকাপ) — ৮৮তম মিনিট (২-১)
মেরিনোর ক্যারিয়ারের মোট ৩৫ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর। অর্থাৎ তার মোট গোলের ৩৪.৩ শতাংশই শেষ মুহূর্তের। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে অন্তত ৩০ গোল করা ফুটবলারদের মধ্যে এই পরিসংখ্যান চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাই আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের হয়ে আবারও শেষ হাসিটা উপহার দেওয়ার অন্যতম বড় ভরসা হতে পারেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























