শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী নির্যাতনে শীর্ষে বরিশাল, কম সিলেটে

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল ও খুলনা বিভাগে, আর তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম সহিংসতা ঘটছে সিলেটে—এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)–এর যৌথভাবে পরিচালিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ প্রতিবেদন ২০২৪’-এ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক নিপীড়ন কিংবা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন—এমন নারীর হার বরিশালে সর্বোচ্চ, ৮২ শতাংশ। তার ঠিক পরেই খুলনায় এ হার ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে সিলেট ও ঢাকায় সহিংসতার হার সবচেয়ে কম, প্রায় ৭৩ শতাংশ। চট্টগ্রামে এই হার ৭৬, ময়মনসিংহে ৭৫, রাজশাহীতে ৭৫ এবং রংপুরে ৭৪ শতাংশ।

জরিপের আগের ১২ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারীর হার হিসাবেও বরিশাল শীর্ষে—৫৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে, যেখানে এই হার ৪১ শতাংশ। চট্টগ্রাম ও রংপুরে এই হার ৫৩, খুলনায় ৫২, সিলেটে ৫০, ময়মনসিংহে ৪৮ এবং ঢাকায় ৪৫ শতাংশের মতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে নারীর ওপর সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব অঞ্চলে নারীদের জীবদ্দশায় সহিংসতার হার ৮১ শতাংশ, যেখানে দুর্যোগপ্রবণ নয় এমন এলাকায় এই হার ৭৪ শতাংশ। জরিপের আগের বছরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সহিংসতার হার ছিল ৫৩ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য এলাকায় তা ছিল ৪৭ শতাংশ।

জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে জীবদ্দশায় অন্তত একবার স্বামী বা সঙ্গীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারীর হার ৭০ শতাংশ। তবে দেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটে সহিংসতার ধরন আরও বিস্তৃত ধরে দেখা হলে দেখা যায়, এই হার দাঁড়ায় ৭৬ শতাংশে। একইভাবে গত ১২ মাসে সহিংসতার হার ৪৯ শতাংশ, যদিও জাতিসংঘের মান অনুযায়ী তা ৪১ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন কিশোরী বয়সী নারীরা। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ গত এক বছরে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

সারাদেশের শহর, গ্রাম, বস্তি ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মোট ২৭ হাজার ৪৭৬ জন নারীর ওপর ভিত্তি করে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নারী নির্যাতনে শীর্ষে বরিশাল, কম সিলেটে

প্রকাশিত সময় : ১১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল ও খুলনা বিভাগে, আর তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম সহিংসতা ঘটছে সিলেটে—এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)–এর যৌথভাবে পরিচালিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ প্রতিবেদন ২০২৪’-এ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক নিপীড়ন কিংবা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন—এমন নারীর হার বরিশালে সর্বোচ্চ, ৮২ শতাংশ। তার ঠিক পরেই খুলনায় এ হার ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে সিলেট ও ঢাকায় সহিংসতার হার সবচেয়ে কম, প্রায় ৭৩ শতাংশ। চট্টগ্রামে এই হার ৭৬, ময়মনসিংহে ৭৫, রাজশাহীতে ৭৫ এবং রংপুরে ৭৪ শতাংশ।

জরিপের আগের ১২ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারীর হার হিসাবেও বরিশাল শীর্ষে—৫৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে, যেখানে এই হার ৪১ শতাংশ। চট্টগ্রাম ও রংপুরে এই হার ৫৩, খুলনায় ৫২, সিলেটে ৫০, ময়মনসিংহে ৪৮ এবং ঢাকায় ৪৫ শতাংশের মতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে নারীর ওপর সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব অঞ্চলে নারীদের জীবদ্দশায় সহিংসতার হার ৮১ শতাংশ, যেখানে দুর্যোগপ্রবণ নয় এমন এলাকায় এই হার ৭৪ শতাংশ। জরিপের আগের বছরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সহিংসতার হার ছিল ৫৩ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য এলাকায় তা ছিল ৪৭ শতাংশ।

জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে জীবদ্দশায় অন্তত একবার স্বামী বা সঙ্গীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারীর হার ৭০ শতাংশ। তবে দেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটে সহিংসতার ধরন আরও বিস্তৃত ধরে দেখা হলে দেখা যায়, এই হার দাঁড়ায় ৭৬ শতাংশে। একইভাবে গত ১২ মাসে সহিংসতার হার ৪৯ শতাংশ, যদিও জাতিসংঘের মান অনুযায়ী তা ৪১ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন কিশোরী বয়সী নারীরা। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ গত এক বছরে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

সারাদেশের শহর, গ্রাম, বস্তি ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মোট ২৭ হাজার ৪৭৬ জন নারীর ওপর ভিত্তি করে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে।