শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা কতটা উপযোগী, ভেবে দেখার আহ্বান তারেক রহমানের

বাংলাদেশের বিদ্যমান অবস্থায় ও ভৌগোলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা কতটা উপযোগী কিংবা উপযোগী কি-না তা ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির ‘জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তিমূলক সমাজ এবং অস্থিতিশীল সরকার সৃষ্টির কারণ হয়ে ওঠতে পারে কি-না তা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে বিভিন্ন দল চিন্তা করেই সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রতিটি দলই যার যার বিবেচনায় উত্তম প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সব প্রস্তাব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বা বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপযোগী কি-না তা বিবেচনার পরামর্শ দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর রাখতে হলে জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি দরকার। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থার আড়ালে আবার দেশের রাজনীতিতে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের পথ সুগম করে দেয়া হচ্ছে কি-না, তা সবার গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার। নিত্য নতুন ইস্যু সামনে আনলে ষড়যন্ত্রকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।”

তারেক রহমান বলেন, সংস্কার ইস্যু নিয়ে দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যস্ত রাখলে তা জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে পারে।

জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ৪২২ জনসহ দেড়হাজারের মতো মানুষ শহীদ হয়েছেন, ৩০ হাজার কমপক্ষে আহত হয়েছেন। কিন্তু আন্দোলনে শহীদরা কানাডার বেগম পাড়ায় বাড়ি কিংবা সুইসব্যাংকে টাকা পাচারের জন্য শহীদ হননি।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করে দেশের মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বিএনপি জনগণের রায়ে ক্ষমতায় গেলে শহীদদের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়ক নামকরণের আশ্বাসও দেন তিনি।

ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে তা জরুরি না। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। আর কোনো যেন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এ বিষয়ে সবাই যেমন ঐক্যবদ্ধ, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা কতটা উপযোগী, ভেবে দেখার আহ্বান তারেক রহমানের

প্রকাশিত সময় : ১০:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের বিদ্যমান অবস্থায় ও ভৌগোলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা কতটা উপযোগী কিংবা উপযোগী কি-না তা ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির ‘জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তিমূলক সমাজ এবং অস্থিতিশীল সরকার সৃষ্টির কারণ হয়ে ওঠতে পারে কি-না তা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে বিভিন্ন দল চিন্তা করেই সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রতিটি দলই যার যার বিবেচনায় উত্তম প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সব প্রস্তাব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বা বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপযোগী কি-না তা বিবেচনার পরামর্শ দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর রাখতে হলে জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি দরকার। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থার আড়ালে আবার দেশের রাজনীতিতে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের পথ সুগম করে দেয়া হচ্ছে কি-না, তা সবার গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার। নিত্য নতুন ইস্যু সামনে আনলে ষড়যন্ত্রকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।”

তারেক রহমান বলেন, সংস্কার ইস্যু নিয়ে দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যস্ত রাখলে তা জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে পারে।

জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ৪২২ জনসহ দেড়হাজারের মতো মানুষ শহীদ হয়েছেন, ৩০ হাজার কমপক্ষে আহত হয়েছেন। কিন্তু আন্দোলনে শহীদরা কানাডার বেগম পাড়ায় বাড়ি কিংবা সুইসব্যাংকে টাকা পাচারের জন্য শহীদ হননি।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করে দেশের মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বিএনপি জনগণের রায়ে ক্ষমতায় গেলে শহীদদের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়ক নামকরণের আশ্বাসও দেন তিনি।

ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে তা জরুরি না। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। আর কোনো যেন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এ বিষয়ে সবাই যেমন ঐক্যবদ্ধ, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য থাকবে।