বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলো ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। মার্কিন হামলার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটি আমিরাতের কাছে বড় অঙ্কের আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়। চিঠিটি পাঠান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে ইরাভানি অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্যায় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার দাবি, আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি ও নৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তাই এর পূর্ণ দায়ভার আমিরাতকেই নিতে হবে।

ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং জনগণের মানসিক প্রভাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।

তবে এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন আইনি ও কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলো ইরান

প্রকাশিত সময় : ০৭:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। মার্কিন হামলার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটি আমিরাতের কাছে বড় অঙ্কের আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়। চিঠিটি পাঠান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে ইরাভানি অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্যায় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার দাবি, আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি ও নৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তাই এর পূর্ণ দায়ভার আমিরাতকেই নিতে হবে।

ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং জনগণের মানসিক প্রভাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।

তবে এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন আইনি ও কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।