বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ ও উত্তর সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাজশাহী অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষার্থে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “পদ্মা নদী বাঁচলে, রাজশাহী বাঁচবে; ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত কর; অবিলম্বে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে; রাজশাহীর পদ্মা নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে পরিবেশ বাঁচাও, কৃষি ও কৃষক বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” শীর্ষক ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা কমিটি ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও রাজশাহীর পদ্মা নদীসহ দেশের অন্যান্য নদীগুলো আজ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। খরা মৌসুমে পদ্মায় পানি থাকে না, নদীগুলো চরে পরিণত হচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সেচ ব্যবস্থায় কৃষকদের চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় নদীখেকোরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

বক্তারা আরও বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের তৃষ্ণার্ত মানুষের হাহাকার বন্ধ করতে চাইলে দৃশ্যমান ও টেকসই সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। পানি ছাড়া জীবন ও প্রকৃতি—উভয়ই অচল। এই সংকট মোকাবেলায় দেরি করার অর্থ হলো একটি বিশাল জনপদকে স্থায়ী বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া। পদ্মা নদী বাঁচলেই রাজশাহী বাঁচবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাই। পাশাপাশি রাজশাহীর পদ্মা নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নদীতে পূর্বের ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে যা ঘোষণা করেছিলেন, সেই পদ্মা নদীর ওপর ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প’ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন চাই।”

এছাড়া বক্তারা রাজশাহীর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজশাহী শিক্ষা নগরী, শান্তির নগরী, পরিচ্ছন্ন নগরী এবং সুচিকিৎসার নগরী হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ৫৩ জন শিশু অকালে প্রাণ হারিয়েছে।” চিকিৎসাসেবা প্রদানে যাদের গাফিলতি রয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন শাস্তির দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলার সভাপতি মাহমুদ হোসেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাপা রাজশাহী জেলার সাবেক সভাপতি জামাত খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক মোছাঃ সেলিনা বেগম।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলার সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জুয়েল কিবরিয়া। গ্রীন ভয়েস রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুন, ছাত্র মৈত্রী রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক সমাজকর্মী সম্রাট রায়হান, দুর্গাপুর উপজেলার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান রুপালি খাতুন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পবা উপজেলার সভাপতি রহিমা বেগম প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ ও উত্তর সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত সময় : ০২:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাজশাহী অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষার্থে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “পদ্মা নদী বাঁচলে, রাজশাহী বাঁচবে; ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত কর; অবিলম্বে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে; রাজশাহীর পদ্মা নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে পরিবেশ বাঁচাও, কৃষি ও কৃষক বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” শীর্ষক ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা কমিটি ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও রাজশাহীর পদ্মা নদীসহ দেশের অন্যান্য নদীগুলো আজ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। খরা মৌসুমে পদ্মায় পানি থাকে না, নদীগুলো চরে পরিণত হচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সেচ ব্যবস্থায় কৃষকদের চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় নদীখেকোরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

বক্তারা আরও বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের তৃষ্ণার্ত মানুষের হাহাকার বন্ধ করতে চাইলে দৃশ্যমান ও টেকসই সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। পানি ছাড়া জীবন ও প্রকৃতি—উভয়ই অচল। এই সংকট মোকাবেলায় দেরি করার অর্থ হলো একটি বিশাল জনপদকে স্থায়ী বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া। পদ্মা নদী বাঁচলেই রাজশাহী বাঁচবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাই। পাশাপাশি রাজশাহীর পদ্মা নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নদীতে পূর্বের ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে যা ঘোষণা করেছিলেন, সেই পদ্মা নদীর ওপর ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প’ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন চাই।”

এছাড়া বক্তারা রাজশাহীর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজশাহী শিক্ষা নগরী, শান্তির নগরী, পরিচ্ছন্ন নগরী এবং সুচিকিৎসার নগরী হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ৫৩ জন শিশু অকালে প্রাণ হারিয়েছে।” চিকিৎসাসেবা প্রদানে যাদের গাফিলতি রয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন শাস্তির দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলার সভাপতি মাহমুদ হোসেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাপা রাজশাহী জেলার সাবেক সভাপতি জামাত খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক মোছাঃ সেলিনা বেগম।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলার সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জুয়েল কিবরিয়া। গ্রীন ভয়েস রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাবেয়া খাতুন, ছাত্র মৈত্রী রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক সমাজকর্মী সম্রাট রায়হান, দুর্গাপুর উপজেলার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান রুপালি খাতুন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পবা উপজেলার সভাপতি রহিমা বেগম প্রমুখ।