বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা মেনে নেবে না

তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রচেষ্টাকে তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বিনষ্টের প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুয়োমিনতাংয়ের চেয়ারওম্যান চেং লি ওনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বেইজিং কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘সহ্য করবে না’।

তাইওয়ানের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে চেং লি ওন বর্তমানে চীনে ‘শান্তি মিশনে’ রয়েছেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে শি জিনপিং বর্তমান বিশ্বের অশান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শান্তিকে ‘মূল্যবান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাইওয়ানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত তার বক্তব্যে শি বলেন, ‘প্রণালীর দুই তীরের স্বদেশীরাই মূলত চীনা—আমরা এক পরিবারের মানুষ যারা শান্তি, উন্নয়ন, বিনিময় এবং সহযোগিতা চাই। যখন একটি পরিবারে সম্প্রীতি থাকে, তখন সবকিছুরই উন্নতি হয়।’

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, প্রণালীর উভয় পক্ষই ‘একই চীনের’ অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি সতর্ক করে এও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এই সম্প্রীতির পথে প্রধান বাধা এবং চীন এটি কখনোই প্রশ্রয় দেবে না।
উল্লেখ্য, চীনের সরকার অনেক দিন ধরেই তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে একজন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে গণ্য করে আসছে এবং তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে লাই প্রশাসন চেং লি-ওনকে আহ্বান জানিয়েছিল যেন তিনি বেইজিংকে তাদের হুমকি বন্ধ করার কথা বলেন এবং তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করেন। চেং লি-ওন একজন চীনপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে কাজ করেছেন।

চীন-তাইওয়ান এই দুই অঞ্চলের মধ্যে ঐতিহাসিক বিরোধ রয়েছে। ১৯৪৯ সালে মাও সে তুং-এর কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তৎকালীন কুয়োমিনতাং সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়নি। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরকে স্বীকৃতিও দেয় না।

এদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী। বেইজিং বারবার ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই কড়া বার্তা এবং তাইওয়ানের বিরোধী দলের সঙ্গে এই বৈঠক তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

সূত্র: ডয়েচেভেলে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

চীন কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা মেনে নেবে না

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রচেষ্টাকে তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বিনষ্টের প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুয়োমিনতাংয়ের চেয়ারওম্যান চেং লি ওনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বেইজিং কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘সহ্য করবে না’।

তাইওয়ানের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে চেং লি ওন বর্তমানে চীনে ‘শান্তি মিশনে’ রয়েছেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে শি জিনপিং বর্তমান বিশ্বের অশান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শান্তিকে ‘মূল্যবান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাইওয়ানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত তার বক্তব্যে শি বলেন, ‘প্রণালীর দুই তীরের স্বদেশীরাই মূলত চীনা—আমরা এক পরিবারের মানুষ যারা শান্তি, উন্নয়ন, বিনিময় এবং সহযোগিতা চাই। যখন একটি পরিবারে সম্প্রীতি থাকে, তখন সবকিছুরই উন্নতি হয়।’

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, প্রণালীর উভয় পক্ষই ‘একই চীনের’ অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি সতর্ক করে এও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এই সম্প্রীতির পথে প্রধান বাধা এবং চীন এটি কখনোই প্রশ্রয় দেবে না।
উল্লেখ্য, চীনের সরকার অনেক দিন ধরেই তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে একজন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে গণ্য করে আসছে এবং তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে লাই প্রশাসন চেং লি-ওনকে আহ্বান জানিয়েছিল যেন তিনি বেইজিংকে তাদের হুমকি বন্ধ করার কথা বলেন এবং তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করেন। চেং লি-ওন একজন চীনপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে কাজ করেছেন।

চীন-তাইওয়ান এই দুই অঞ্চলের মধ্যে ঐতিহাসিক বিরোধ রয়েছে। ১৯৪৯ সালে মাও সে তুং-এর কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তৎকালীন কুয়োমিনতাং সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়নি। উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরকে স্বীকৃতিও দেয় না।

এদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী। বেইজিং বারবার ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই কড়া বার্তা এবং তাইওয়ানের বিরোধী দলের সঙ্গে এই বৈঠক তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

সূত্র: ডয়েচেভেলে