মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে নেই তেলের সংকট, বাইরে মানুষের হাহাকার: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাঁর ভাষ্য, সংসদের ভেতরে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অথচ সংসদের বাইরে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য হাহাকার করছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ-এ জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বক্তব্যের শুরুতে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ আশা করছে সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, কারণ এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না—এটিকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, শুধু পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, নিজে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি দেখে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ লক্ষ্য করেছেন।

তিনি বলেন, সংসদের প্রতিটি মুহূর্তই জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং জনপ্রতিনিধিরা এখানে নিজেদের জন্য নয়, বরং জনগণের কথা বলার জন্য আসেন। তাই এমন চরম দুর্ভোগের সময়েও যদি জনগণের কণ্ঠ সংসদে প্রতিফলিত না হয়, তবে এই প্রতিষ্ঠানে থাকার সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে তিনি ‘সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে বাস্তবে মানুষ তেলের জন্য দিশেহারা। সংকটের কারণেই উচ্চ আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও ভার্চুয়াল কার্যক্রম চালু করতে হয়েছে— যা সংকট না থাকলে প্রয়োজন হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাব তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত। বিরোধী দল হিসেবেও তারা সমাধানে ভূমিকা রাখতে চান, মতামত দিতে চান। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি শুধু সরকারি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অন্য জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন—সেটি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। শেষে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ পুরো অর্থনীতির চাকা শক্তি ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তাই বিষয়টি দায়সারাভাবে নিষ্পত্তি না করে, সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করার আহ্বান জানান।

 

সূত্র: যুগান্তর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সংসদে নেই তেলের সংকট, বাইরে মানুষের হাহাকার: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাঁর ভাষ্য, সংসদের ভেতরে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অথচ সংসদের বাইরে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য হাহাকার করছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ-এ জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বক্তব্যের শুরুতে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ আশা করছে সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, কারণ এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না—এটিকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, শুধু পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, নিজে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি দেখে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ লক্ষ্য করেছেন।

তিনি বলেন, সংসদের প্রতিটি মুহূর্তই জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং জনপ্রতিনিধিরা এখানে নিজেদের জন্য নয়, বরং জনগণের কথা বলার জন্য আসেন। তাই এমন চরম দুর্ভোগের সময়েও যদি জনগণের কণ্ঠ সংসদে প্রতিফলিত না হয়, তবে এই প্রতিষ্ঠানে থাকার সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে তিনি ‘সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে বাস্তবে মানুষ তেলের জন্য দিশেহারা। সংকটের কারণেই উচ্চ আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও ভার্চুয়াল কার্যক্রম চালু করতে হয়েছে— যা সংকট না থাকলে প্রয়োজন হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাব তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত। বিরোধী দল হিসেবেও তারা সমাধানে ভূমিকা রাখতে চান, মতামত দিতে চান। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি শুধু সরকারি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অন্য জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন—সেটি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। শেষে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ পুরো অর্থনীতির চাকা শক্তি ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তাই বিষয়টি দায়সারাভাবে নিষ্পত্তি না করে, সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করার আহ্বান জানান।

 

সূত্র: যুগান্তর