মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে খুন

সিলেটের কানাইঘাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ফারহানা বেগম নামে তিন সন্তানের এক জননী খুন হয়েছেন। মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে এনে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ১ম খণ্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ঘাতক স্বামী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বন্দ গ্রামের সোহেল আহমদের সঙ্গে কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুরের ফারহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল প্রায়ই স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন।

নিহতের ভাই নোহা গাড়িচালক সেলিম উদ্দিন জানান, তার বোনের স্বামী সোহেল একজন মাদকাসক্ত এবং নির্যাতনের কারণে দুই দিন আগেই ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। সোমবার রাতে ফারহানা তার মামার বাড়িতে অবস্থানকালে সোহেল ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতেই সোহেল পরিকল্পিতভাবে ফারহানাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সেলিম উদ্দিন আরও জানান, নির্যাতনের বিষয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও সোহেলের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফারহানার পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য ঘাতক সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ফারহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফারহানার লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক সোহেল আহমদকে আটক করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে এলেও ততক্ষণে ঘাতক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের দাবি, ঘাতক সোহেলের মাদকাসক্তি ও উগ্র মেজাজের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে খুন

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটের কানাইঘাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ফারহানা বেগম নামে তিন সন্তানের এক জননী খুন হয়েছেন। মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে এনে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ১ম খণ্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ঘাতক স্বামী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বন্দ গ্রামের সোহেল আহমদের সঙ্গে কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুরের ফারহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল প্রায়ই স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন।

নিহতের ভাই নোহা গাড়িচালক সেলিম উদ্দিন জানান, তার বোনের স্বামী সোহেল একজন মাদকাসক্ত এবং নির্যাতনের কারণে দুই দিন আগেই ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। সোমবার রাতে ফারহানা তার মামার বাড়িতে অবস্থানকালে সোহেল ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতেই সোহেল পরিকল্পিতভাবে ফারহানাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সেলিম উদ্দিন আরও জানান, নির্যাতনের বিষয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও সোহেলের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফারহানার পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য ঘাতক সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ফারহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফারহানার লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক সোহেল আহমদকে আটক করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে এলেও ততক্ষণে ঘাতক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের দাবি, ঘাতক সোহেলের মাদকাসক্তি ও উগ্র মেজাজের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।