শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, মর্যাদা চাই প্রতিটি ঘামের”: রায়হান রোহান

শ্রমিকের ঘাম যেন মর্যাদা পায়,অধিকার হোক সবার সমানঃরায়হান রোহান

আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে  ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম-এর প্রকাশক রায়হান রোহান ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন  আন্তর্জাতিক মে দিবস  বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দিন। প্রতি বছরের ১লা মে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় শ্রমিক শ্রেণির ত্যাগ, আন্দোলন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ইতিহাস।

১৮৮৬ সালের ১লা মে, শিকাগো শহরের হে মার্কেট শ্রমিক আন্দোলন-এ শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাদের সেই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সংঘটিত হয় রক্তক্ষয়ী ঘটনা, যেখানে বহু শ্রমিক প্রাণ হারান। এই আত্মত্যাগই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করে এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

মে দিবস কেবল একটি দিবস নয়—এটি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক, এটি ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা। শিল্পায়নের শুরু থেকে আজকের আধুনিক বিশ্ব পর্যন্ত শ্রমিকরা তাদের ঘাম ও পরিশ্রম দিয়ে সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছে।

রায়হান রোহান বলেন  তাদের অবদান অনস্বীকার্য, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা এখনও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি, নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের জাতীয় অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—অনেক শ্রমিক এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার অভাবে ভুগছেন।

এই প্রেক্ষাপটে মে দিবস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—শ্রমিকের অধিকার শুধু দাবি নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। শ্রমিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।

রায়হান রোহান বলেন  আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সকল শহীদ শ্রমিকদের, যাদের আত্মত্যাগ আজকের শ্রম অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই গড়ে উঠছে একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ।

আসুন, এই আন্তর্জাতিক মে দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করব।

শ্রমিকের ঘাম যেন মর্যাদা পায়, অধিকার হোক সবার সমান—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

“শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, মর্যাদা চাই প্রতিটি ঘামের”: রায়হান রোহান

প্রকাশিত সময় : ১২:১৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে  ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম-এর প্রকাশক রায়হান রোহান ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন  আন্তর্জাতিক মে দিবস  বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দিন। প্রতি বছরের ১লা মে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় শ্রমিক শ্রেণির ত্যাগ, আন্দোলন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ইতিহাস।

১৮৮৬ সালের ১লা মে, শিকাগো শহরের হে মার্কেট শ্রমিক আন্দোলন-এ শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাদের সেই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সংঘটিত হয় রক্তক্ষয়ী ঘটনা, যেখানে বহু শ্রমিক প্রাণ হারান। এই আত্মত্যাগই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করে এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

মে দিবস কেবল একটি দিবস নয়—এটি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক, এটি ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা। শিল্পায়নের শুরু থেকে আজকের আধুনিক বিশ্ব পর্যন্ত শ্রমিকরা তাদের ঘাম ও পরিশ্রম দিয়ে সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছে।

রায়হান রোহান বলেন  তাদের অবদান অনস্বীকার্য, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা এখনও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি, নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের জাতীয় অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—অনেক শ্রমিক এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার অভাবে ভুগছেন।

এই প্রেক্ষাপটে মে দিবস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—শ্রমিকের অধিকার শুধু দাবি নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। শ্রমিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।

রায়হান রোহান বলেন  আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সকল শহীদ শ্রমিকদের, যাদের আত্মত্যাগ আজকের শ্রম অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই গড়ে উঠছে একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ।

আসুন, এই আন্তর্জাতিক মে দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করব।

শ্রমিকের ঘাম যেন মর্যাদা পায়, অধিকার হোক সবার সমান—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।