সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও স্টেডিয়াম পরিষ্কার, বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন জাপানি সমর্থকরা

বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাপানের সমর্থকরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ২-২ গোলের ড্রয়ের পরও স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে নিজেদের অনন্য সংস্কৃতির পরিচয় দিয়েছেন তারা।রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অবস্থিত এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জাপান ও নেদারল্যান্ডস। ম্যাচজুড়ে নাটকীয়তা ছিল তুঙ্গে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছে জাপান।

তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে গ্যালারির দৃশ্য। খেলা শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ পরও জাপানি সমর্থকদের দেখা যায় হাতে বড় প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে নিজেদের বসার জায়গা পরিষ্কার করতে।

স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা বোতল, কাগজ ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহ করে তারা জায়গাগুলো আগের মতো পরিচ্ছন্ন করে তোলেন। বড় টুর্নামেন্ট শেষে যেখানে সাধারণত গ্যালারিতে বিশৃঙ্খলা ও ময়লার স্তূপ দেখা যায়, সেখানে জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মাঠের খেলায়ও দারুণ লড়াই করেছে জাপান। গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোলটি করেন মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা। কোকি ওগাওয়ার হেড থেকে প্রতিহত হওয়া বল পেয়ে দ্রুত জালে জড়ান তিনি। ফলে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।গ্রুপ ‘এফ’-এর দুই শীর্ষ র‌্যাঙ্কিংধারী দলের এই ম্যাচ ড্র হলেও দুইবার পিছিয়ে পড়ে ফিরে আসায় জাপানের জন্য ফলটি অনেকটা জয়ের অনুভূতিই এনে দেয়।

অবশ্য জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে হারের ম্যাচের পরও গ্যালারি পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল তারা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা যায়। জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর পরও স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেছিলেন জাপানি দর্শকরা।

সাবেক জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু আগে বলেছিলেন, এটি তাদের সংস্কৃতিরই অংশ। জনসমাগমস্থল আগের চেয়ে আরও পরিষ্কার রেখে আসা জাপানি সমাজে স্বাভাবিক একটি অভ্যাস।

রোববারের ম্যাচে আরও একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করেন এনএফএল তারকা কোয়ার্টারব্যাক জেমিস উইনস্টন। ফক্সের মিডিয়া প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকা উইনস্টন ম্যাচের আগে দুই দলের সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান এবং পরে জাপানি সমর্থকদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন।মাঠে ফুটবল উপহার দিয়েছে উত্তেজনা আর নাটকীয়তা, তবে ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে জাপানি সমর্থকদের আচরণই আবারও বিশ্ব ফুটবলে তাদের আলাদা পরিচয় তুলে ধরেছে—শৃঙ্খলা, সম্মানবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, সিয়ামের পছন্দের দল স্পেন

আবারও স্টেডিয়াম পরিষ্কার, বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন জাপানি সমর্থকরা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাপানের সমর্থকরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ২-২ গোলের ড্রয়ের পরও স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে নিজেদের অনন্য সংস্কৃতির পরিচয় দিয়েছেন তারা।রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অবস্থিত এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জাপান ও নেদারল্যান্ডস। ম্যাচজুড়ে নাটকীয়তা ছিল তুঙ্গে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছে জাপান।

তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে গ্যালারির দৃশ্য। খেলা শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ পরও জাপানি সমর্থকদের দেখা যায় হাতে বড় প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে নিজেদের বসার জায়গা পরিষ্কার করতে।

স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা বোতল, কাগজ ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহ করে তারা জায়গাগুলো আগের মতো পরিচ্ছন্ন করে তোলেন। বড় টুর্নামেন্ট শেষে যেখানে সাধারণত গ্যালারিতে বিশৃঙ্খলা ও ময়লার স্তূপ দেখা যায়, সেখানে জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মাঠের খেলায়ও দারুণ লড়াই করেছে জাপান। গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোলটি করেন মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা। কোকি ওগাওয়ার হেড থেকে প্রতিহত হওয়া বল পেয়ে দ্রুত জালে জড়ান তিনি। ফলে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।গ্রুপ ‘এফ’-এর দুই শীর্ষ র‌্যাঙ্কিংধারী দলের এই ম্যাচ ড্র হলেও দুইবার পিছিয়ে পড়ে ফিরে আসায় জাপানের জন্য ফলটি অনেকটা জয়ের অনুভূতিই এনে দেয়।

অবশ্য জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে হারের ম্যাচের পরও গ্যালারি পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল তারা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা যায়। জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর পরও স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেছিলেন জাপানি দর্শকরা।

সাবেক জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু আগে বলেছিলেন, এটি তাদের সংস্কৃতিরই অংশ। জনসমাগমস্থল আগের চেয়ে আরও পরিষ্কার রেখে আসা জাপানি সমাজে স্বাভাবিক একটি অভ্যাস।

রোববারের ম্যাচে আরও একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করেন এনএফএল তারকা কোয়ার্টারব্যাক জেমিস উইনস্টন। ফক্সের মিডিয়া প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকা উইনস্টন ম্যাচের আগে দুই দলের সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান এবং পরে জাপানি সমর্থকদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন।মাঠে ফুটবল উপহার দিয়েছে উত্তেজনা আর নাটকীয়তা, তবে ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে জাপানি সমর্থকদের আচরণই আবারও বিশ্ব ফুটবলে তাদের আলাদা পরিচয় তুলে ধরেছে—শৃঙ্খলা, সম্মানবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে।