শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে ২৪ প্রাণহানির পর রাশিয়ায় আরও হামলার ঘোষণা ইউক্রেনের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভে রুশ হামলায় শিশুসহ ২৪ জন নিহত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রুশ আগ্রাসন বন্ধের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিন প্রতিবেশী দেশটিতে শত শত ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে মস্কো।

জবাবে ইউক্রেনও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার রাশিয়ার রিয়াজান শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হন। এর মধ্যে এক শিশুও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কিয়েভ যদি তাদের বেশিরভাগ শর্ত মেনে না নেয়, তবে তারা যুদ্ধবিরতি বা পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় বসবে না।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের জনগণের জীবন কেড়ে নেওয়া আগ্রাসনকারীদের কোনো হামলার জবাব না দিয়ে ইউক্রেন চুপ করে থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার তেল শিল্প, সামরিক উৎপাদন এবং ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমাদের পাল্টা হামলা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত।

এর আগে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করেন জেলেনস্কি।

ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভবনটির আঙিনায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে রাশিয়ার হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।’

শিশুদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১২, ১৫ ও ১৭ বছর।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর জানান, লিউবাভা ইয়াকোভলেভা নামের সবচেয়ে ছোট শিশুটির বাবা রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আগেই প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চলেছে। সে সময় ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

কিয়েভের মেয়র বলেছেন, এখনও প্রায় দুই ডজন মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি পেয়েছেন ২০৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা। দীর্ঘদিন রুশ বন্দিদশায় থাকা এই সেনাসদস্যদের অনেকে মারিওপল ও চেরনোবিল এলাকায় যুদ্ধরত ছিলেন।

ইউক্রেনও সমান সংখ্যক রুশ সেনাকে মুক্তি দিয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত রুশ সেনাদের মিত্রদেশ বেলারুশ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা মানসিক ও চিকিৎসাসহায়তা পাচ্ছেন।

রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের হামলায় রিয়াজানে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে।
সূত্র: বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনার খরচ ফ্রি করবো: প্রধানমন্ত্রী

কিয়েভে ২৪ প্রাণহানির পর রাশিয়ায় আরও হামলার ঘোষণা ইউক্রেনের

প্রকাশিত সময় : ০৭:১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভে রুশ হামলায় শিশুসহ ২৪ জন নিহত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রুশ আগ্রাসন বন্ধের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিন প্রতিবেশী দেশটিতে শত শত ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে মস্কো।

জবাবে ইউক্রেনও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার রাশিয়ার রিয়াজান শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হন। এর মধ্যে এক শিশুও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কিয়েভ যদি তাদের বেশিরভাগ শর্ত মেনে না নেয়, তবে তারা যুদ্ধবিরতি বা পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় বসবে না।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের জনগণের জীবন কেড়ে নেওয়া আগ্রাসনকারীদের কোনো হামলার জবাব না দিয়ে ইউক্রেন চুপ করে থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার তেল শিল্প, সামরিক উৎপাদন এবং ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমাদের পাল্টা হামলা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত।

এর আগে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করেন জেলেনস্কি।

ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভবনটির আঙিনায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে রাশিয়ার হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।’

শিশুদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১২, ১৫ ও ১৭ বছর।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর জানান, লিউবাভা ইয়াকোভলেভা নামের সবচেয়ে ছোট শিশুটির বাবা রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আগেই প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চলেছে। সে সময় ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

কিয়েভের মেয়র বলেছেন, এখনও প্রায় দুই ডজন মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি পেয়েছেন ২০৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা। দীর্ঘদিন রুশ বন্দিদশায় থাকা এই সেনাসদস্যদের অনেকে মারিওপল ও চেরনোবিল এলাকায় যুদ্ধরত ছিলেন।

ইউক্রেনও সমান সংখ্যক রুশ সেনাকে মুক্তি দিয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত রুশ সেনাদের মিত্রদেশ বেলারুশ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা মানসিক ও চিকিৎসাসহায়তা পাচ্ছেন।

রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের হামলায় রিয়াজানে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে।
সূত্র: বাসস