শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চিৎকার না করলে সেদিন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত’

‘সেদিন আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন কিন্তু মানসিকভাবে যে কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি সেটা শুধু মাত্র আমি জানি’। শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া নিজের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী ফারিন খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সময় মত চিৎকার না করলে তাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত।

ফারিন ফেসবুকে লেখেন, ‘১৩ তারিখ জামালপুর যাওয়ার পথে আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে বাধ্য হয়ে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে যাই। ভেতরে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর হঠাৎই মনে হলো, আমার পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে দেখি, ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটো হাত ঠিক আমার গলার কাছে!

হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না করলে আমাকে মেরে সবকিছু লুটপাট করত, এমনকি ধর্ষণের চেষ্টাও করত।

আমি চিৎকার করে দ্রুত বেরিয়ে আসি। আমার ড্রাইভার চিৎকার শুনেই এগিয়ে আসে। লোকটাকে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়।’
পরে ফারিন ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, লোকটাকে সে ওয়াশরুমের পেছনে যেতে দেখেছিল।

তার হাতে অনেকগুলো ডিমের খোসা ছিল। তাই সে ভেবেছিল, হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে।

অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার চিৎকার শুনেই সে বুঝতে পারে কিছু একটা ঘটেছে। বাইরে থেকে হয়তো আমি সাহসী থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় পেয়েছিলাম, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

ঘটনাটি পরেরদিন শুটিং ইউনিটের সবাইকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘প্রথমে ভাবছিলাম বিষয়টা কাউকে বলব না।

পরদিন শুটিং ইউনিটের অনেকের সঙ্গে বিষয়টা শেয়ারও করেছি। জীবনে এর চেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে। আল্লাহ হয়তো সেদিন আমাকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানসিকভাবে আমি যে কতটা ভেঙে পড়েছিলাম, কতটা আতঙ্ক আর চাপা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম, সেটা শুধু আমিই জানি।’

এরপর ফারিন লেখেন, ‘আমরা যারা বাইরে কাজ করি, তারা জানি প্রতিনিয়ত কত ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। যে দেশে আমাকে (একজন নারীকে) আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয়, সেখানে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ, বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো বিচার কখনো হয়নি যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে। সত্যিই এই দেশে মেয়েরা নিরাপদ না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘চিৎকার না করলে সেদিন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত’

‘চিৎকার না করলে সেদিন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত’

প্রকাশিত সময় : ১১:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
‘সেদিন আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন কিন্তু মানসিকভাবে যে কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি সেটা শুধু মাত্র আমি জানি’। শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া নিজের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী ফারিন খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সময় মত চিৎকার না করলে তাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত।

ফারিন ফেসবুকে লেখেন, ‘১৩ তারিখ জামালপুর যাওয়ার পথে আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে বাধ্য হয়ে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে যাই। ভেতরে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর হঠাৎই মনে হলো, আমার পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে দেখি, ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটো হাত ঠিক আমার গলার কাছে!

হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না করলে আমাকে মেরে সবকিছু লুটপাট করত, এমনকি ধর্ষণের চেষ্টাও করত।

আমি চিৎকার করে দ্রুত বেরিয়ে আসি। আমার ড্রাইভার চিৎকার শুনেই এগিয়ে আসে। লোকটাকে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়।’
পরে ফারিন ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, লোকটাকে সে ওয়াশরুমের পেছনে যেতে দেখেছিল।

তার হাতে অনেকগুলো ডিমের খোসা ছিল। তাই সে ভেবেছিল, হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে।

অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার চিৎকার শুনেই সে বুঝতে পারে কিছু একটা ঘটেছে। বাইরে থেকে হয়তো আমি সাহসী থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় পেয়েছিলাম, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

ঘটনাটি পরেরদিন শুটিং ইউনিটের সবাইকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘প্রথমে ভাবছিলাম বিষয়টা কাউকে বলব না।

পরদিন শুটিং ইউনিটের অনেকের সঙ্গে বিষয়টা শেয়ারও করেছি। জীবনে এর চেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে। আল্লাহ হয়তো সেদিন আমাকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানসিকভাবে আমি যে কতটা ভেঙে পড়েছিলাম, কতটা আতঙ্ক আর চাপা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম, সেটা শুধু আমিই জানি।’

এরপর ফারিন লেখেন, ‘আমরা যারা বাইরে কাজ করি, তারা জানি প্রতিনিয়ত কত ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। যে দেশে আমাকে (একজন নারীকে) আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয়, সেখানে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ, বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো বিচার কখনো হয়নি যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে। সত্যিই এই দেশে মেয়েরা নিরাপদ না।’