শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ২, আদালতে আসামীদের দায় স্বীকার

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের তৎপরতায় একটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অভিযানকালে ভুক্তভোগীর ঘর থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— ফেরদৌস হোসেন (৩১) এবং কর্ণাল মিয়া ওরফে জয়নাল (৩৯)।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৩ জুন  ভোররাতে মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় স্বামী-পরিত্যক্তা এক শ্রমজীবী নারী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে তিনজন দুষ্কৃতিকারী কৌশলে ঘরের দরজার সিটকানি খুলে মুখে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় ভেতরে প্রবেশ করে।
তারা ওই নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জিম্মি করে ফেলে। এরপর তাদের মধ্যে দুজন ওই নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সময় অপর এক দুষ্কৃতিকারী ঘরের ভেতর থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যায় ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। কোনো ক্লু না থাকায় মামলাটি তদন্ত করা পুলিশের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় তদন্ত শুরু করে।
প্রযুক্তির সূত্র ধরে পুলিশ আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত ফেরদৌসকে এবং মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকা থেকে জয়নাল ওরফে কন্নালকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন দুটি।
গ্রেফতারের পর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে ঘটনার সাথে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি ফেরদৌস একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে চুরিসহ মোট চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মৌলভীবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ২, আদালতে আসামীদের দায় স্বীকার

প্রকাশিত সময় : ১০:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের তৎপরতায় একটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অভিযানকালে ভুক্তভোগীর ঘর থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— ফেরদৌস হোসেন (৩১) এবং কর্ণাল মিয়া ওরফে জয়নাল (৩৯)।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৩ জুন  ভোররাতে মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় স্বামী-পরিত্যক্তা এক শ্রমজীবী নারী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে তিনজন দুষ্কৃতিকারী কৌশলে ঘরের দরজার সিটকানি খুলে মুখে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় ভেতরে প্রবেশ করে।
তারা ওই নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জিম্মি করে ফেলে। এরপর তাদের মধ্যে দুজন ওই নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সময় অপর এক দুষ্কৃতিকারী ঘরের ভেতর থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যায় ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। কোনো ক্লু না থাকায় মামলাটি তদন্ত করা পুলিশের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় তদন্ত শুরু করে।
প্রযুক্তির সূত্র ধরে পুলিশ আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত ফেরদৌসকে এবং মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকা থেকে জয়নাল ওরফে কন্নালকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন দুটি।
গ্রেফতারের পর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে ঘটনার সাথে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি ফেরদৌস একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে চুরিসহ মোট চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।