শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার বয়ান ও নামাজে মাইকের ব্যবহার নিয়ে ইসলাম কী বলে?

মুফতি আবদুল্লাহ নুর

আমার নাম হাবিব আনজার। আমার বাড়ি বরিশাল শহরে। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মসজিদের আজান দেওয়ার মাইকে জুমার বয়ান করেন এবং জুমার নামাজ পড়ান। এভাবে মাইকে জুমার বয়ান করা ও নামাজ পড়ানো কি বৈধ?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, জুমার খুতবা ও নামাজে লাউড স্পিকারের আওয়াজ এতটুকু উঁচু রাখবে যেন উপস্থিত শ্রোতারা তা শুনতে পারে। লাউড স্পিকারের ব্যবহার করা হবে প্রয়োজন পূরণের জন্য। এগুলো ব্যবহার করে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে খুতবা ও কিরাতের আওয়াজ পৌঁছানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নামাজের সময় লাউড স্পিকারের আওয়াজ ততটুকুই রাখবে যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছাড়া নামাজ আদায় করা যায়। বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত আওয়াজ বৃদ্ধি করা পরিহারযোগ্য।

জুমার আগে যে বয়ান হয় তা যদি মাইকের মাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং এর দ্বারা মানুষের কাছে উপদেশ পৌঁছে দেওয়া উদ্দেশ্য হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। মনে রাখতে হবে, বাইরের মাইক ব্যবহারের ফলে যদি মানুষের কষ্ট হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা সঠিক নয়। যেমন মসজিদের পাশে যদি কোনো হাসপাতাল থাকে এবং সেখানে সব সময় অসুস্থ ব্যক্তিরা থাকে, মাইকের আওয়াজে তাদের কষ্ট হতে পারে। এমন অবস্থায় বাইরের মাইক ব্যবহার করবে না।

ফাতাওয়ায়ে শামিতে লেখা হয়েছে, ‘পূর্ব ও পরের সব আলেমরা একমত যে, মসজিদ বা মসজিদের বাইরে সম্মিলিত দ্বিনি আলোচনা করা উত্তম। কিন্তু শর্ত হলো তার শব্দ ঘুমন্ত ব্যক্তি, মুসল্লি ও কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য সমস্যার কারণ হবে না।’ (ফাতাওয়ায়ে শামী : ১/৬৬০)

ফাতাওয়ায়ে শামিতে আরো লেখা হয়েছে, ‘যদি এক ব্যক্তি ফিকহ লেখে এবং তার পাশে অন্য এক ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে। ফিকহ লেখা ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পারছে না, এমন অবস্থায় কোরআন পাঠকারীরই গুনাহ হবে। একই কারণে কেউ যদি ছাদে কোরআন তিলাওয়াত করে অথচ মানুষ ঘুমিয়ে আছে, তখন তিলাওয়াতকারী গুনাহগার হবে। কেননা সে তাদের কোরআন শ্রবণ থেকে বিরত থাকার কারণ হয়েছে অথবা সে তাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে কষ্ট দিচ্ছে।’ (ফাতাওয়ায়ে শামী : ১/৫৪০)

ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে লেখা হয়েছে, ‘যে ইমাম মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে আওয়াজ উঁচু করে, সে অন্যায় করল। কেননা ইমাম উচ্চস্বরে কোরআন তিলাওয়াত করে যেন মানুষ তা শোনে এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। পাশাপাশি তাদের মনোযোগও স্থির থাকে।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/৭২)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জুমার বয়ান ও নামাজে মাইকের ব্যবহার নিয়ে ইসলাম কী বলে?

প্রকাশিত সময় : ১০:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
মুফতি আবদুল্লাহ নুর

আমার নাম হাবিব আনজার। আমার বাড়ি বরিশাল শহরে। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মসজিদের আজান দেওয়ার মাইকে জুমার বয়ান করেন এবং জুমার নামাজ পড়ান। এভাবে মাইকে জুমার বয়ান করা ও নামাজ পড়ানো কি বৈধ?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, জুমার খুতবা ও নামাজে লাউড স্পিকারের আওয়াজ এতটুকু উঁচু রাখবে যেন উপস্থিত শ্রোতারা তা শুনতে পারে। লাউড স্পিকারের ব্যবহার করা হবে প্রয়োজন পূরণের জন্য। এগুলো ব্যবহার করে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে খুতবা ও কিরাতের আওয়াজ পৌঁছানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নামাজের সময় লাউড স্পিকারের আওয়াজ ততটুকুই রাখবে যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছাড়া নামাজ আদায় করা যায়। বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত আওয়াজ বৃদ্ধি করা পরিহারযোগ্য।

জুমার আগে যে বয়ান হয় তা যদি মাইকের মাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং এর দ্বারা মানুষের কাছে উপদেশ পৌঁছে দেওয়া উদ্দেশ্য হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। মনে রাখতে হবে, বাইরের মাইক ব্যবহারের ফলে যদি মানুষের কষ্ট হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা সঠিক নয়। যেমন মসজিদের পাশে যদি কোনো হাসপাতাল থাকে এবং সেখানে সব সময় অসুস্থ ব্যক্তিরা থাকে, মাইকের আওয়াজে তাদের কষ্ট হতে পারে। এমন অবস্থায় বাইরের মাইক ব্যবহার করবে না।

ফাতাওয়ায়ে শামিতে লেখা হয়েছে, ‘পূর্ব ও পরের সব আলেমরা একমত যে, মসজিদ বা মসজিদের বাইরে সম্মিলিত দ্বিনি আলোচনা করা উত্তম। কিন্তু শর্ত হলো তার শব্দ ঘুমন্ত ব্যক্তি, মুসল্লি ও কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য সমস্যার কারণ হবে না।’ (ফাতাওয়ায়ে শামী : ১/৬৬০)

ফাতাওয়ায়ে শামিতে আরো লেখা হয়েছে, ‘যদি এক ব্যক্তি ফিকহ লেখে এবং তার পাশে অন্য এক ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে। ফিকহ লেখা ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পারছে না, এমন অবস্থায় কোরআন পাঠকারীরই গুনাহ হবে। একই কারণে কেউ যদি ছাদে কোরআন তিলাওয়াত করে অথচ মানুষ ঘুমিয়ে আছে, তখন তিলাওয়াতকারী গুনাহগার হবে। কেননা সে তাদের কোরআন শ্রবণ থেকে বিরত থাকার কারণ হয়েছে অথবা সে তাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে কষ্ট দিচ্ছে।’ (ফাতাওয়ায়ে শামী : ১/৫৪০)

ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে লেখা হয়েছে, ‘যে ইমাম মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে আওয়াজ উঁচু করে, সে অন্যায় করল। কেননা ইমাম উচ্চস্বরে কোরআন তিলাওয়াত করে যেন মানুষ তা শোনে এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। পাশাপাশি তাদের মনোযোগও স্থির থাকে।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/৭২)

আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।